অ্যাপেন্ডিক্স
অ্যাপেন্ডিক্সস মানব শরীরের একটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গ।এটি আমাদের পরিপাক নালীতে অবস্থিত।এটি এখন আর কোন কাজে লাগে না।একসময় লাগতো, যখন মানুষ রান্না করতে শেখেনি,সবকিছু কাঁচা খেত,এটি তখন সেলুলোজ খাদ্যকে পরিপাক করতো।এখন আর মানুষ কাঁচা খায় না,তাই ঐ অ্যাপেন্ডিক্সও আর কোন কাজে লাগে না,খালি খালি পড়ে আছে পেটের মধ্যে।উল্টে আরো ঝামেলা বাধায় অনেকের ক্ষেত্রে।
![]() |
| পেট ব্যথা |
অ্যাপেন্ডিসাইটিস
অ্যাপেনডিক্স পরিপাকনালীর বৃহদন্ত্রের সিকাম নামক অংশে যুক্ত আঙুলের সাইজের একটা ক্ষুদ্র অঙ্গ।খাদ্য পরিপাকে এখন আর এর দরকার না হলেও অপাচিত খাদ্যের টুকরো এর মধ্যে গিয়ে ঢুকলে সমস্যা তৈরি হয়।
খাদ্যের কণা এর মধ্যে আটকে থাকলে এতে প্রদাহ তৈরি হয়।এই প্রদাহের ফলেই শুরু হয় ব্যথা।অপাচিত খাদ্যের কণাকে আশ্রয় করে ব্যাকটিরিয়া বংশবৃদ্ধি করে ও পুঁজ তৈরি করে।ফলে এই বিপত্তি সৃষ্টি হয়।
এই ব্যথা প্রথমে নাভির চারপাশ জুড়ে শুরু হয়,তারপর ক্রমশ তলপেটের ডানদিকে সরে যায়।তলপেটের ডানদিকে কুঁচকির ঠিক উপরে প্রবল ব্যথা শুরু হয়।ব্যথার সঙ্গে সঙ্গে বমিভাব বা বমিও হতে পারে, সঙ্গে জ্বরও আসতে পারে,সেইসঙ্গে পেটও ফুলতে পারে।ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যও হতে পারে,গ্যাস নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি হয়।
প্রথমে পেটে অল্প খিল ধরা ভাব দিয়ে অ্যাপেনডিক্স এর ব্যথা শুরু হয়ে পরে সেটা বড় আকার ধারণ করেতে পারে।
![]() |
| পেটে ব্যথা |
প্রদাহযুক্ত অ্যাপেনডিক্স অনেক সময় খানিক নিচের দিকে নেমে এসে মাঝে মাঝে মূত্রথলিকেও স্পর্শ করতে পারে, তখন মূত্রথলিতেও প্রদাহ তৈরি হয় ও মূত্রের সমস্যা দেখা দেয়।
এইধরনের ব্যথা একদিনের বেশি স্থায়ী হলে অ্যাপেনডিসাইটিস হিসেবে সন্দেহ করা উচিত, এবং দ্রুত ডাক্তার দেখানো উচিত।কারণ,অ্যাপেনডিসাইটিস খুব দ্রুত গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।চিকিৎসায় দেরি করলে অ্যাপেনডিক্স পেকে বার্স্ট হয়ে যেতে পারে।সেরকম হলে সারা পেটে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে গুরুতর অবস্থা তৈরি হতে পারে, এবং এর ফলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।
অ্যাপেনডিসাইটিস যে কোন বয়সে হতে পারে, তবে ১০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
অ্যাপেনডিসাইটিস এর সম্ভাবনা আছে বলে মনে হলে দেরী না করে ডাক্তার দেখানো উচিত, এবং অবশ্যই পরীক্ষা(ডায়াগনোসিস) করা উচিত, কারণ,ব্যাথার অন্য অনেক কারণও থাকতে পারে,যেমন,গ্যাস বা আলসার, বা মূত্রনালীতে সংক্রমণ ইত্যাদি আরো অনেক কিছু।তাই নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরীক্ষা করে রোগ চিহ্নিত করে নেওয়া উচিত।এবং পরীক্ষার ফলে অ্যাপেনডিসাইটিস ধরা পড়লে অবশ্যই অপারেশন করে ওটাকে কেটে বাদ দেওয়া উচিত।কোনরকম ওষুধপত্র, বা টোটকা বা হোমিওপ্যাথি ইত্যাদির সাহায্যে রোগ সারানোর অবাস্তব পদক্ষেপ নিলে কেবল মৃত্যুকেই নিশ্চিত করা হবে।
![]() |
| পেটে ব্যথা |



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন