![]() |
| Stop diabetes |
ডায়াবেটিস রোগটি কি ?
ডায়াবেটিস একটি ঘাতক রোগ ।এই রোগ নীরবে নিঃশব্দে মৃত্যু ডেকে আনে। রক্তে শর্করা বা গ্লুকোজ বা চিনির পরিমাণ বেড়ে গেলে এই ডায়াবেটিস রোগ হয়। ডায়াবেটিস হলে অর্থাৎ, রক্তে সুগার বেড়ে গেলে রক্তের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কমে যায়। এর থেকে হার্ট বা কিডনি ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া সঠিক ভাবে সুস্থ ভাবে জীবন যাপনের জন্য খুব বিড়ম্বনাকর। ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়া মানে শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া, স্বাস্থ্য ভেঙ্গে যাওয়া এবং জীবনীশক্তি অনেকটা নষ্ট হয়ে যাওয়া। তাই আমাদের উচিত ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকা, ডায়াবেটিস মুক্ত জীবন গড়ে তোলা।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া সঠিক ভাবে সুস্থ ভাবে জীবন যাপনের জন্য খুব বিড়ম্বনাকর। ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়া মানে শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া, স্বাস্থ্য ভেঙ্গে যাওয়া এবং জীবনীশক্তি অনেকটা নষ্ট হয়ে যাওয়া। তাই আমাদের উচিত ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকা, ডায়াবেটিস মুক্ত জীবন গড়ে তোলা।
ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা কখন বাড়ে?
আধুনিক জীবন পদ্ধতি ডায়াবেটিসের একটা বড় কারণ। মানুষের অলসভাবে বসে বসে কাজকর্ম করা, বসে থাকা, অনেকক্ষণ ধরে বসে থাকা, শারীরিক পরিশ্রম না করা, হাঁটাচলা না করা ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে।
ডায়াবেটিস রোধে কি কি করণীয়?
লাইফস্টাইল কেমন হতে হবে ?
নিয়মিত হাঁটাচলা করা দরকার, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া দরকার। অপ্রয়োজনে তেল-মসলা, অতিরিক্ত ভোজন, রিচ খাবার, ভাজাভুজি, ফাস্টফুড - এসব এড়িয়ে চলা উচিত। ফ্যাট জাতীয় খাবার এবং শর্করা জাতীয় খাবার, কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি জাতীয় খাবার একটু সতর্কভাবে খাওয়া উচিত। এই দুই প্রকার খাবার খাওয়ার ব্যাপারে আরও সংযম অবলম্বন করা উচিত।
খাদ্যখাবার কেমন খেতে হবে ?
ভেজিটেবল বা শাকসবজি বেশি করে খাওয়া উচিত, ফল, গোটা শস্য জাতীয় খাবার যেমন ভাত গম ভুট্টা; তারপর চর্বিবিহীন দুগ্ধজাত খাদ্য বা চর্বিহীন মাংস বা কম চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
শারীরিক শ্রম ও ব্যায়াম
ব্যায়াম শরীরচর্চা পরিমানমত করতে হবে, এতে শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরে যাবে। এটা আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। খুব বেশি পরিশ্রম করার দরকার নেই, জিমে যাওয়ার দরকার নেই, কিছু খালি হাতে ব্যায়াম যদি আমরা নিয়মিত করি, একটু হাঁটাচলা করি - সেটাই অনেক বেশি কার্যকর। আমাদের কাজের ব্যস্ততা যতই থাকুক আমাদের ডায়াবেটিস মুক্ত জীবন গড়তে হলে আমাদের কিছু হাঁটাচলা ব্যায়াম শরীরচর্চা কাজকর্ম শারীরিক পরিশ্রম এগুলো করতে হবে।
সচেতনতা ও নিয়মিত চেকআপ
বয়সটা একটু বাড়লে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা যেহেতু বাড়ে,সেহেতু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ ক'রে 30 এর উপর বয়স গেলে শরীর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে; বিশেষ ক'রে যাদের পরিবারে বাবা মা'র মধ্যে বা বংশে ডায়াবেটিস এর প্রবণতা রয়েছে তাদেরকে আরো অনেক বেশি সচেতন হতে হবে এবং ডায়াবেটিস যাতে শরীরে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য আগে থেকে সতর্ক ভাবে জীবন যাপন করতে হবে, সব রকমের সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া মানে জীবনের বিরম্বনা বেড়ে যাওয়া তাই ডায়াবেটিস যাতে শরীরে না আসতে পারে তার জন্য আগাম সচেতন থাকতে হবে। আর যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে আছেন তারা যদি এইসব নিয়ম কানুন ভালোভাবে মেনে চলেন তাহলে সেটা টাইপ টু ডায়াবেটিসের পর্যায়ে পৌঁছানো প্রতিরোধ করা যাবে বা বিলম্বিত করা যাবে। ডায়াবেটিসে যারা অলরেডি আক্রান্ত হয়েছেন তাদের অবশ্যই নিয়মিত ডাক্তারের চেকআপ করা উচিত, নিয়মিত সুগার মাপা উচিত এবং ডাক্তারের কাছ থেকে সঠিক খাবার-দাবারের পরামর্শ নেয়া উচিত কি, কি খাওয়া উচিত, কি কি খাওয়া উচিত নয়, কি পরিমাণে খাওয়া উচিত - এগুলো লিখে রাখা উচিত এবং সেটা নিয়ম করে পালন করা উচিত। পরিমিত লাইফস্টাইল, পরিমিত খাওয়া দাওয়া, নিয়ম মেনে চলা - এতে শরীর অনেকটা সুস্থ থাকে, ডায়াবেটিস অনেকটা দূরে রাখা যায়, ডায়াবেটিসকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
শরীরকে হাইড্রেটেড রাখুন
প্রতিদিন অন্তত সাত-আট গ্লাস জল খান এবং ক্যাফিন মুক্ত চা পান করুন - এটা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখবে যা সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।
মানসিক চাপ দূরে রাখুন
মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে মানসিক চাপের ফলে শরীরে এমন কিছু হরমোন ক্ষরিত হয় যা রক্তে সুগারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। তাই মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। গান শুনুন, আনন্দ করুন, গল্পগুজব করুন, আড্ডা মারুন, মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করুন, সামাজিক কাজকর্ম করুন এবং কাজ করার মধ্যে থাকলেও বা ব্যায়াম করলে, প্রাণায়াম করলে মানসিক চাপ থেকে শরীরকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
পড়ুন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আরও পোস্ট>>
পড়ুন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আরও পোস্ট>>
সঠিক ঘুম আবশ্যক
ঘুম না হলে বা নিয়মিত ঘুম না হলে বা ঘুমের ঘাটতি ঘটলে বা অভাব ঘটলে বা ঘুম ভালো না হলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যাতে ভালো ঘুম হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। শারীরিক পরিশ্রম ক'রে শরীরের পেশি গুলোকে একটু যদি ক্লান্ত করা যায় তাহলে শরীর বিশ্রাম নিতে চায়,ফলে ঘুম পায়। শারীরিক পরিশ্রম করলেও কিন্তু ঘুম ভালো হয়। প্রতিদিন অন্তত সাত-আট ঘন্টা ঘুমানো উচিত এবং প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত।এসব মেনে চললে আপনাকে ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত রাখবে এবং সুন্দর জীবন আপনাকে উপহার দেবে।
ধুমপান ও মদ্যপান একদম নয়
ডায়াবেটিস মুক্ত জীবনের জন্য আপনাকে ধূমপান পরিত্যাগ করতে হবে এবং মদ গাঁজা বা নেশা দ্রব্য অ্যালকোহল মাদকদ্রব্য একদম খাওয়া যাবে না। এগুলো রক্তে শর্করার পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিসকে বিপদজনক জায়গায় নিয়ে যায় এবং ধূমপান মদ্যপান এসবের ফলে ডায়াবেটিস বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে হার্ট কিডনি এগুলো ড্যামেজ হওয়ার দিকে এগিয়ে যায়। তাই ধূমপান এবং মদ্যপান বা যে কোন নেশা সবসময় এড়িয়ে চলা উচিত।
জানুন, কেন ঘটে স্ট্রোক ? প্রতিরোধের উপায়ই বা কি ?
জানুন, কেন ঘটে স্ট্রোক ? প্রতিরোধের উপায়ই বা কি ?

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন