![]() |
| এসো নাটক করি |
।।।।প্রথম দৃশ্য।।।।
হীরু।। মা,ভাত দাও।খুব খিদে পেয়েছে।বকুল।। তুই এতক্ষণ ছিলি কোথায় রে,স্কুলে যাসনি কেন ?
হীরু।। (আমতা আমতা করে) ছিলাম....
বকুল।। কোথায় ছিলি ?
হীরু।। ছিলাম আশেপাশে।
বকুল।। আশেপাশে মানে কোথায় ? তোর বাবা তো তোকে খুঁজেও পায়নি, কোথায় লুকিয়ে ছিলি বল।স্কুলে যাসনি ব'লে খুব রেগে আছে।মার কারে কয় আজ তুই বুঝতে পারবি।
হীরু।। বাবা খুব রেগে গেছে ?
বকুল।। রেগে গেছে মানে ? বেশ ভালো মতোই রেগেছে।স্কুলে যাসনি,স্কুল ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিস,আর সে রাগবে না ?
হীরু।। সবদিন স্কুলে যেতে ভালো লাগে না মা।বাবা কেন এটা বোঝে না ?
বকুল।। বুঝবে আজ সন্ধ্যেবেলা দেখিস,পিঠের ছাল তুলে দেবে।
হীরু।। মা,মার খেলে মরে যাবো,তুমি বাবাকে একটু ঠেকিও।
বকুল।। আমি ঠেকাতে-ফেকাতে পারবো না,আয় ভাত খেয়ে নে।
(বকুল রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ায়।মা মা করতে করতে হীরুও মায়ের পিছনে পিছনে যায়।)
।।।।দ্বিতীয় দৃশ্য।।।।
মঞ্চে দেখা যাচ্ছে হীরু আর নীলু গুলি খেলছে।এমনি সময় স্কুল ফেরত কয়েকজন ছাত্র বাড়ির দিকে যাচ্ছিল।তারা এদের দু'জনকে দেখে থমকে দাঁড়ায়।পিন্টু।। কি রে হীরু, স্কুলে যাস না কেন ?
হীরু।। ধুর,স্কুলে যেতে ভালো লাগে না।
নীলু।। আরে স্কুলে যেয়ে হবে কি ?
প্রদীপ।। তা গুলি খেলে হবে কি ?
নীলু।। এই যা তো,জ্ঞান মারিস না।আমাদের খেলতে দে।
গোপাল।। আরে রেগে যাচ্ছিস কেন ?খেল না।কি মজা,আহা!স্কুলে না গিয়ে গুলি খেলা!
তুই ও আয় না,গোপাল।
গোপাল।। রাম রাম রাম।
নীলু।। কেন ?রাম রাম করার কি হয়েছে ?
গোপাল।। আরে ধোলাই চিনিস ধোলাই ?ধোলাই কারে কয় জানিস ?তোদের মতো আমি যদি স্কুল ফাঁকি মেরে গুলি খেলি তাহলে আমার বাবা আমার একটা হাড়ও আস্ত রাখবে না।
পিন্টু।। আরে নীলু,তুই যে স্কুলে যাস না,তোর বাবা তোরে কিছু বলে না ?
নীলু।। (না বাচক ভাবে) হুঁ হুঁ ।
পিন্টু।। কেন ?
নীলু।। আরে আমি আমার বাবার কাজ করে দিই না,আমার বাবা আমাকে বলবে কি?
পিন্টু।। তা হীরু, তোর ব্যাপার কি?
হীরু।। চিন্তায় আছি!
পিন্টু।। কেন ?
হীরু।। মা বলেছে, বাবা খুব রেগে গেছে, সন্ধ্যেবেলায় বাড়ি ফিরে
প্রদীপ।।(হীরুর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে) ধোলাই দেবে ?
হীরু।। হুঁ (নীলু বাদে আর সবাই হা হা হা করে হেসে উঠলো)।
।।।।তৃতীয় দৃশ্য।।।।
সন্ধ্যেবেলা।হীরু মায়ের পাশে বসে আছে।হীরুর বাবা বিমল বাড়িতে ঢুকে হাঁক দিলো।বিমল।। হীরুর মা,হীরু কোথায়?(হীরু ভয়ে তার মা কে জড়িয়ে ধরে)।
বিমল।। এই হারামজাদা, এদিকে আয়।(চিৎকার ক'রে) স্কুলে যাসনি কেন? (হীরু মা কে আরো বেশী জড়িয়ে ধরে,বিমল হীরুর হাত ধরে টেনে আনতে চায়)
বিমল।। আয়,এদিকে আয় হারামজাদা।
বকুল।। (বাধা দিয়ে বলে) আজ ছাড়ো,কাল থেকে স্কুলে যাবে।
বিমল।। স্কুলে যাবে?আমাকে বোঝাচ্ছো?আমার সাথে লুকোচুরি খেলা?আমার সাথে চালাকি?আয়,এদিকে আয়(বলে এক হ্যাঁচকা টানে ছাড়িয়ে নিয়ে পাছার ছাল তুলতে থাকে)।
হীরু।। (মার খেতে খেতে)ওরে বাবারে,মা রে,ও রে....ও..ও..ও..,আ আ আ,...ওরে বাবা...ওরে মা...ওরে ঠাম্মা,মরে গেলাম(ঠাকুমা ছুটে আসে,পিছনে পিছনে ঠাকুর্দাও)।
ঠাকুমা।। এই এই ছাড় ছাড়,ওকে এইভাবে মারছিস কেন?
বিমল।। মারবো না তা কি আদর করবো নাকি?(বলে আরো দুই ঘা)
হীরু।। ওরে ঠাম্মা রে..আ আ আ (বলতে বলতে পাছায় হাত বুলাতে থাকে)
(ঠাকুমা এক ঝটকায় নাতিকে ছাড়িয়ে নেয়,হাত দিয়ে চোখ মুছিয়ে দিয়ে বলে)
ঠাকুমা।। দেখ দেখি,বাছাটাকে কি মারাই না মেরেছে!
বিমল।। লাই দাও মা,আরো বেশি করে লাই দাও;লাই দিয়ে দিয়ে ওর মাথাটাকে খাও।
ঠাকুমা।। অ মাথা খাচ্ছি, আর তুই কি করছিস?
বিমল।। তোমরা ছেলেটাকে মানুষ হতে দেবে না দেখছি।ও লেখাপড়া করছে না,স্কুলে যাচ্ছে না।লাই দিয়ে দিয়ে বান্দর বানিয়ে তুলছো।শেষে খাবে কি করে?দিনমজুরি করে ?
ঠাকুর্দা।। সে কথা তোর ভাবতে হবে না।সময় হলে ও ঠিক পড়াশুনা করতে শুরু করবে।এখন অত শাসন করার দরকার নেই।
বিমল।। না..শাসন করবো না..স্কুলে না গিয়ে গুলি খেলে বেড়াচ্ছে, আর বলছো শাসন করবো না?
ঠাকুর্দা।। এ বয়সে গুলি খেলবে না তো কোন বয়সে খেলবে?এটাই তো খেলাধূলা করার বয়স।
বিমল।। খেলাধূলা করতে কি আমি নিষেধ করেছি?তাই বলে কি স্কুল কামাই দিয়ে খেলাধূলো করবে?কেন,স্কুল থেকে ফিরে ও তো বিকেলবেলা খেলাধূলা করা যায়।এখন থেকে ও যদি পড়াশুনা না করে তাহলে পরে কি আর লাইনে চলতে পারবে?খেই হারিয়ে উচ্ছন্নে চলে যাবে।
ঠাকুর্দা।। ঠিক আছে,তুই যা,ও কাল থেকে স্কুলে যাবে।দাদুভাই,তুমি কাল থেকে আর স্কুল কামাই কোরো না।স্কুলে না গেলে মানুষ হবে কি করে?লেখাপড়া না শিখলে যে বড় হওয়া যায় না;ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায় না।লেখাপড়া না শিখলে তো শেষে আমাদের মতো হাটে কলা বেচে খেতে হবে।
হীরু।। ঠাকুর্দা, স্কুলে যেতে আমার ভালো লাগে না।
ঠাকু্র্দা।। কেন ভালো লাগে না, দাদুভাই?
হীরু।। স্কুলে গেলে স্যারেরা পড়া দেয়।সেইসব আবার পড়ে যাও-এসব ঝুটঝামেলা ভালো লাগে না।
ঠাকুর্দা।। ছি ছি ছি ছি, দাদুভাই।পড়াশুনা করা কি ঝুটঝামেলা হল ?পড়াশুনা না করলে কি বুদ্ধি বাড়ে?পড়াশোনা না করলে যে সারাজীবন মুখ্যু হয়ে থাকতে হবে।কেউ মানুষ বলে দামই দেবে না।
হীরু।। কিন্তু....
ঠাকুর্দা।। কিন্তু আবার কি?কোন কিন্তু টিন্তু নয়।কাল থেকে তুই স্কুলে যাবি।আর তাছাড়া,এখন তো মাস্টার মশায়েরা মারধরও করেন না।আমাদের সময় জানিস তো,যে মার যে মারতো না,মেরে একেবারে ছাল তুলে দিতো।আর এখন তো আবার দুপুরে খাওয়াদাওয়ারও ব্যবস্থা আছে।ঐ মিড ডে মিল না কি বলে যেন?
হীরু।। ওসব খেতে আমার ভালো লাগে না।খালি আলু আর সয়াবিনের তরকারী।একটু মাছমাংস না হলে কি ভালো লাগে(ঠাকুর্দা হাসে)।
বিমল।। ওরে আমার লাটসাহেব রে,স্কুলে দুপুরে গরম গরম খেতে দিচ্ছে তাই আরো কত।ওর আবার মাছ মাংস চাই !
ঠাকুর্দা।। ঠিক আছে দাদুভাই, আর বাহানা কোরো না।কাল থেকে স্কুলে যাওয়া চাই।
হীরু।। কিন্তু....
ঠাকুর্দা।। আবার কি কিন্তু....
হীরু।। অনেক দিন স্কুলে যাওয়া হয় না।ক্লাসটিচার তো কৈফিয়ত চাইবে।তখন যে মুশকিল হয়ে যাবে।
ঠাকুর্দা।। কিছু মুশকিল হবে না।দরকার হয় আমিও যাবো তোর সাথে।হেডমাস্টার মশাই কে বলে দিয়ে আসবো।
বিমল।। কাল যেন আমি দেখি তুই স্কুলে গেছিস।কোন গোঁ গাঁ চলবে না।কোনরকম অজুহাত আমি কিন্তু শুনবো না-এই বলে রেখে গেলাম।(বেরিয়ে যায়)
ঠাকুর্দা।। ঠিক আছে, তুই যা।দাদুভাই কাল থেকে আর স্কুল কামাই করবে না।তাহলে চলো দাদুভাই, এখন একটু পড়তে বসো।কাল তো আবার স্কুলে যেতে হবে।চলো।(হীরুর হাত ধরে নিয়ে যায়)।
।।।।চতুর্থ দৃশ্য।।।।
ক্লাসরুম।।চশমা চোখে বয়স্ক শিক্ষক প্রবেশ করে।
রোলকল হচ্ছে।একে একে সবাই ইয়েস স্যর ব'লে উপস্থিতি দিচ্ছে।
শিক্ষক।। ২৩,২৪,২৫
হীরু।। ইয়েস ছার
শিক্ষক।। (আঁতকে উঠৈ) অ্যাঁ ! আরে হীরু !?
আরে ও হীরু,
তুই করলি কি এ শুরু ?
কি রে ? কোঁচকাচ্ছিস যে ভুরু ?
তুই তো দেখছি স্কুল পালানোর গুরু।।
হীরু,বল,তুই এতদিন স্কুলে আসিস নি কেন ? (হীরু চুপ) কি হল ?বল।(ধমক)
হীরু।। ম্যাঁ ম্যাঁ ম্যাঁ.... ছার....হ্যা হ্যা হ্যা....(কেঁদে ফেলে)।(ক্লাসের সবাই হীরুর কান্ড দেখে হেসে ফেলে)।
শিক্ষক।। ..
এ কি কান্ড হীরু ?
তুই দেখছি বড়ই ভীরু,
তুই ফেললি শেষে কেঁদে ?
তোকে এনেছি কি বেঁধে ?
(সবাই হেসে উঠলো)
হীরু।। ছার,আমি আর স্কুল কামাই করবো না।
শিক্ষক।। চোপ !(টেবিলে থাপ্পড় মেরে) অত ছার ছার করছিস কেন ? আমি কি ছারপোকা নাকি,অ্যা ?(হীরু ঘাবড়ে যায়, চোখ বড় বড় হয়ে যায়) ছার নয়,বল স্যর।কই বল।
হীরু।। ছার,স্যর
শিক্ষক।। হুম,স্যর
হীরু।।(দু'তিনবার) স্যর,স্যর,স্যর
শিক্ষক।। হু,ঠিক আছে, বুঝেছিস তো তাহলে এবার ?
হীরু।। হ্যাঁ,ছার,(জিভ কেটে) ও না,স্যর।স্যর,স্যর (শিক্ষক হীরুর দিকে একটু চোখ কটমট করে তাকালেন)
শিক্ষক।।(তারপর বললেন) ও,হ্যাঁ, কি বলছিলি যেন ? আর স্কুল কামাই করবি না ?
হীরু।। না ছা ছা স্যর (শিক্ষক আবার একটু স্থির দৃষ্টিতে তাকালেন,তারপর বললেন..)
শিক্ষক।। সে তো খুব ভালো কথা।কিন্তু এতদিন কেন আসিস নি,বলতো খুলে তা।(হীরু নিরুত্তর) কোন কারণ নেই, তাই তো ? জেনে রাখ, এরপর স্কুল কামাই করলে কিন্তু কঠোর ব্যবস্থা নেবো।বোস,বসে পড়।(হীরু বসে পড়ে। আবার রোলকল ২৬,২৭
ফুলকি।। উপস্থিত।
শিক্ষক।। এ আবার কে ?দেখি, দাঁড়া দেখি।( ফুলকি দাঁড়ায়) কিরে এতদিন পরে? কি ব্যাপার? এতদিন ছিলি কোথায়?
ফুলকি।। স্যার ,বাড়িতে ছিলাম।
শিক্ষক।। বাড়িতে ছিলি ? তাহলে স্কুলে আসিস নি কেন?
ফুলকি।। স্যার সময় পাইনা।
শিক্ষক।। সময় পাস না ? কেন বাড়ি বসে করিস কি যে সময় পাস না
ফুলকি।। কাজ করি স্যার।
শিক্ষক।। কি কাজ করিস।
ফুলকি।। স্যার, লোকের বাড়ি কাজ করি।
শিক্ষক।। কেন তোর বাবা কি করে তাহলে ?
ফুলকি।। বাবা নেই স্যার
শিক্ষক।। ও ..আচ্ছা, তা মা? তোর মা কি করে?
ফুলকি।। মা ও লোকের বাড়ি কাজ করে। কিন্তু মা'র শরীর ভালো নেই, বেশিরভাগ সময় অসুস্থ থাকে। তাই আমাকেই তখন করতে হয়।
শিক্ষক।। ও, আচ্ছা, কি মুশকিল ! আচ্ছা, বোস দেখি হ্যাঁ শোন, পড়াশোনার ব্যাপারে কোন দরকার হলে, কিছু বুঝতে না পারলে অফিসে চলে আসিস বুঝিয়ে দেব ।আর বইপত্র না থাকলে বলিস ,ব্যবস্থা করে দেব ।
ফুলকি।। ঠিক আছে স্যার।( বসে পড়ে )
শিক্ষক।। 39, 40, 41, 42 (রোল কল শেষ ক'রে খাতা বন্ধ ক'রে একটু হাই তুলে আড়মোড়া ভেঙে)
আচ্ছা দেখি বইটা দে দেখি। (একজন বই দেয়। বইয়ের পাতা উল্টে) তুই দাঁড়া তো বিল্টু, বলতো তোদের বাড়িতে রান্না ঘরে হাঁড়িতে 12 টি রসগোল্লা রাখা আছে। বুঝলি?
বিল্টু।। হ্যাঁ বুঝলাম স্যার
শিক্ষক।। আচ্ছা, তোদের বাড়িতে তোরা লোক কয়জন?
বিল্টু।। স্যার, আমার বাবা মা দিদি আর আমি
শিক্ষক।। মানে চারজন ?
বিল্টু।। হ্যাঁ
শিক্ষক।। তাহলে তোদের রান্নাঘরের হাড়িতে কয়টি রসগোল্লা আছে বললাম?
বিল্টু।। স্যার 12 টি
শিক্ষক।। 12 টি রসগোল্লা তোদের বাড়ির চারজন এর মধ্যে সমান চার ভাগে ভাগ করে দেওয়া হলো বুঝলি ?বিল্টু।। হ্যাঁ বুঝলাম স্যার
শিক্ষক।। তাহলে তোর দিদি কয়টি রসগোল্লা পাবে ? বিল্টু।। একটাও না স্যার
শিক্ষক।।( আঁতকে উঠে ) অ্যাঁ, একটাও না মানে?
বিল্টু।। মানে স্যার, আমিই তো সব ক'টা খেয়ে নেব ।তাহলে দিদির তো একটাও পাওয়ার কথা নয়।
শিক্ষক।। বাহ্, তুইতো বেশ ভালোই অংক শিখেছিস বিল্টু।। হ্যাঁ স্যার, এসব সহজ অংক আমার কাছে কিছুই না। আপনি আরো বড় অংক ধরুন (শিক্ষকের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়।)
।।।। পঞ্চম দৃশ্য।।।।
ফুলকি ও তার মা তাদের ঘরে। তার মা শয্যাশায়ী, শরীর অসুস্থ। ফুলকি মায়ের মাথার পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করছে।ফুলকি।। এখন কেমন লাগছে মা?
মা।। আগের থেকে ভালো
ফুলকি।। ঠিক আছে, তাহলে একটু ঘুমানোর চেষ্টা করো
মা।। ঘুমালে হবে মা? আমাকে কাজে যেতে হবে না ? ফুলকি।। না মা, আজ তোমাকে কাজে যেতে হবে না। মা।। কাজে না গেলে খাবি কি? ঘন ঘন কামাই করলে বাবুরা রাগ করে, তাদের অসুবিধা হয় । শেষে আমাকে ছাড়িয়ে দিয়ে অন্য লোক ঠিক করলে না খেয়ে মরতে হবে ।
ফুলকি।। তোমাকে সে চিন্তা করতে হবে না । তুমি একটু ঘুমানোর চেষ্টা করো। আমি কাজে যাচ্ছি।
মা।। না মা, তুই স্কুলে যা। একটু লেখাপড়া শেখ দেখি ফুলকি।। সে শেখা যাবে । কিন্তু তুমি এখন একটু ঘুমানোর চেষ্টা করো। সারারাত ঘুমাওনি। শেষে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে সমস্যা হয়ে যাবে । নাও ঘুমাও মা।। ঠিক আছে মা, তুই তাহলে যা ঘুরে আয়। সাবধানে যাস মা, দেখে শুনে রাস্তা পার হস।
ফুলকি।। ঠিক আছে, মা।
।।।। ষষ্ঠ দৃশ্য।।।।
শিক্ষক স্কুলে যাওয়ার পথে পথের মাঝে ফুলকির সাথে দেখা। ফুলকি একটু বিব্রত বোধ করে।শিক্ষক।। কোথায় যাচ্ছিস? স্কুলে যাবি না?
ফুলকি।। (জড়োসড়ো হয়ে) না স্যার
শিক্ষক।। কেন ?
ফুলকি।। (আমতা আমতা করে) কাজে যাচ্ছি, স্যার। শিক্ষক।। কেন ? তোর মার শরীর কি খারাপ ?
ফুলকি।। হ্যাঁ স্যার, কাজে না গেলে নয়, হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে ।
শিক্ষক।। কিন্তু..
ফুলকি।। আসি স্যার (ফুলকি পাশ কাটিয়ে চলে যায়) শিক্ষক হতবুদ্ধির মত দাঁড়িয়ে থাকে।
।।।। সপ্তম দৃশ্য।।।।
(হিরু সবান্ধব স্কুল থেকে ফিরছে পথে নিলুর সাথে দেখা)নীলু।। হেই রে, হিরু, তুই ইস্কুলে গেছিলি?
হিরু।। হুঁ
নিলু।। তাই ভাবি, আরে, হিরু গেল কোথায় ? তোকে আমি তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কোথাও পেলাম না। আর গুলি খেলাও হলো না। আম বাগানে অনেকক্ষণ একা একা বসে ছিলাম, যদি তুই আসিস। কিন্তু তুই তো দেখি স্কুলে গিয়ে বসে আছিস (সবাই হা হা করে হাসি দিল)
হিরু।। তুইও কাল থেকে স্কুলে যাবি।
নিলু।। আরে কি বলিস ইস্কুলে যাব ? ওখানে যেয়ে হবে কি ? সারাদিন স্কুলে বসে থাকতে ভালো লাগে ?
রাখাল।। তা কি সারা দিন গুলি খেলতে ভালো লাগে ?(সবাই হো হো করে হাসে)
নীলু।। আরে,গুলি খেলার মজা তুই কি বুঝবি, রাখাল। তোর হাতে কি টিপ আছে? আয় আমার সাথে একদিন খেল, পুরো হাগা বেরিয়ে যাবে।
গোপাল।। নিলু, তুই রাখালের সাথে পড়াশোনা করে পাল্লা দে তো ।
পিন্টু।। তাহলে ওর হাগা বেরিয়ে যাবে (সবাই হা হা হা হা হা করে হেসে দিলো।)
নিলু।। আরে যা যা ।
গোপাল।। তাহলে করে দেখা ।
হিরু।। নীলু, তুইও কাল থেকে স্কুলে চল।
নিলু।। তোর ইস্কুল ভালো লাগছে ?
হিরু।। হ্যাঁ, খুবই ভালো লাগছে। সবাই মিলে বেশ আনন্দ হয় ।
নিলু।। তুইও শেষে স্কুলে যাওয়া ধরলি ? তোরা সবাই স্কুলে যাওয়াতে আমি একা হয়ে গেলাম। কার সাথে খেলবো কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না ।
হিরু।। আরে, তুইও স্কুলে চল তাহলে আর একা থাকবি না। আর স্কুল থেকে এসে বিকেলে খেলা যাবে অসুবিধা কোথায় ?
নিলু।। বলছিস ?
হিরু।। হ্যাঁ, বলছি । চল কাল থেকে আমাদের সঙ্গে তুইও স্কুলে যাবি।
নিলু।। তাই ?
হিরু।। তাই
নিলু।। আচ্ছা চল, তাহলে কাল থেকে আমিও তোদের সাথে স্কুলে যাবো।
( সবাই মিলে)-- হুররে....।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন