![]() |
| বুকে ব্যথা |
বুুুকে ব্যথা
বুুুকে ব্যথা, বিশেষ করে বুকের বাঁদিকে ব্যথা করলে আমাদের মনের মধ্যে কেমন যেন একটা আশঙ্কা উঁকি দিয়ে ওঠে-তাইতো, খারাপ কিছু নয় তো ? বুকটা যেন একটু ছ্যাঁৎ করে ওঠে,বিশেষ করে ব্যথাটা যদি একটু বেশি মাত্রায় হয়।আশঙ্কা হওয়াই স্বাভাবিক।
কারণ,বুকের ঠিক মাঝখানে সামান্য বাঁ দিক ঘেঁষে আমাদের প্রাণভোমরাটি,অর্থাৎ হৃৎপিণ্ড টি রয়েছে, ইংরেজি তে যাকে বলে হার্ট।হার্ট অ্যাটাক কথাটির সাথে সবাই কমবেশি পরিচিত।কারণ,এই হার্ট অ্যাটাকে অনেক মানুষেরই মৃত্যু ঘটে।আর এই হার্ট অ্যাটাকের সূত্রপাত হয় বুকে ব্যথা থেকে।তাই বুকে ব্যথা হলে সত্যিই সাবধান হওয়ার দরকার আছে।বুকে ব্যথাকে হালকাভাবে নিলে বা আগে থেকে ডাক্তার না দেখালে বিপদ ঘটলেও ঘটে যেতে পারে, যখন আর প্রতিরোধের সময় পাওয়া যাবে না।তাই আগে থেকে সাবধান হয়ে ডাক্তারকে দিয়ে একটু চেকআপ করিয়ে নেওয়াই ভালো।
তাই বলে, বুকে ব্যথা হলেই অযথা ভয় পাওয়ার বা ঘাবড়ে যাওয়ার কোন কারণ নেই।কারণ,বুকে ব্যথা মানেই হার্টের সমস্যা নয়।আরো নানা কারণে বুকে ব্যথা হতে পারে।কারণ,বুকের ঠিক মাঝখানে সামান্য বাঁ দিক ঘেঁষে আমাদের প্রাণভোমরাটি,অর্থাৎ হৃৎপিণ্ড টি রয়েছে, ইংরেজি তে যাকে বলে হার্ট।হার্ট অ্যাটাক কথাটির সাথে সবাই কমবেশি পরিচিত।কারণ,এই হার্ট অ্যাটাকে অনেক মানুষেরই মৃত্যু ঘটে।আর এই হার্ট অ্যাটাকের সূত্রপাত হয় বুকে ব্যথা থেকে।তাই বুকে ব্যথা হলে সত্যিই সাবধান হওয়ার দরকার আছে।বুকে ব্যথাকে হালকাভাবে নিলে বা আগে থেকে ডাক্তার না দেখালে বিপদ ঘটলেও ঘটে যেতে পারে, যখন আর প্রতিরোধের সময় পাওয়া যাবে না।তাই আগে থেকে সাবধান হয়ে ডাক্তারকে দিয়ে একটু চেকআপ করিয়ে নেওয়াই ভালো।
তাই বুকে ব্যথা হলে তাকে অবহেলা করা বা তাতে ঘাবড়ে যাওয়ার পরিবর্তে বকে ব্যথা কি কারণে হচ্ছে তা শীঘ্র যাচাই করে দেখা বেশি জরুরী।কারণ,তাহলেই আপনি সত্যিকারেই বুকে কোন সমস্যা আছে কিনা সেটা বুঝতে পারবেন, বা কোন সমস্যা ধরা পড়লে সময়মতো চিকিৎসা করে তা সারিয়ে তুলতে পারবেন।
বুকে ব্যথার কিছু আলাদা আলাদা ধাঁচ বা ধরন আছে, যেমন--
তীক্ষ্ণ বা তীব্র ব্যথানিস্তেজ বা হালকা ব্যথা
জ্বালাপোড়া টাইপের ব্যথা
ধরে থাকা ব্যথা
ছুরিকাঘাত এর মতো ব্যথা
আঁটসাঁট বা নিষ্পেষণ করার মতো ব্যথা
এবার দেখা যাক, কি কি কারণে বুকে ব্যথা হতে পারে-->>>>>>>>
১. করোনারি আর্টারি ডিজিজ(ক্যাড)>>
যে ধমনী হৃৎপিণ্ডের পেশীতে অক্সিজেন পরিপূর্ণ রক্ত পরিবহন করে(করোনারি আর্টারি) তাতে যদি কোনরকম ব্লকেজ বা বাধা সৃষ্টি হয়, তাহলে ধমনীতে রক্ত প্রবাহ কমে যায় ও হৃৎপেশীতে রক্ত ও অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়,ফলে বুকে ব্যথা অনুভব হয়। একে বলে angina. এটা অনেকটা হার্ট অ্যাটাকের মতো,তবে এটা হার্ট অ্যাটাক নয়।তবে হার্ট অ্যাটাক বা হার্টের সমস্যার পূর্বাভাস বটে।এটা যেন বলে দিতে চায় যে,তুমি ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাকের সম্মুখীন হবে।এই ব্যথা বুক থেকে ছড়িয়ে পড়ে হাত,কাঁধ,চোয়াল ও পিঠ পর্যন্তও প্রসারিত হতে পারে। এই ব্যথাটা অনেকটা নিংড়ানো বা মোচড়ানোর মত চাপ দিচ্ছে বলে অনুভূত হয়।এক্সারসাইজ, উত্তেজনা বা মানসিক পীড়নের কারণে এরকম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে,এরকম ব্যথা হলে বিশ্রাম নিতে হবে,তাহলে ব্যথা দূর হবে।চিকিৎসায় এ সমস্যা দূর হয়।তাই অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসক এর কাছে যেতে হবে যদি এরকম উপসর্গ দেখা দেয়।
২. মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন(হার্ট অ্যাটাক)>>
হৃৎপিণ্ডের রক্ত নালীতে এইভাবে রক্ত প্রবাহ কমে গেলে হৃৎপিণ্ডের পেশীকোষগুলোর মৃত্যু ঘটে।তখন উপরে বর্ণিত angina র মতো ব্যথা সৃষ্টি হয়,কিন্তু সেই ব্যথা আরো বেশি মারাত্মক, ভয়ঙ্কর, ক্রাসিং পেইন।বুকের বাঁ দিকের একেবারে মাঝখানটাতেই এই ব্যথা অনুভূত হয়,এবং বিশ্রামেও এ ব্যথা কমে না।ব্যথার সঙ্গে ঘাম,বমিভাব, শ্বাসপ্রশ্বাস ছোট হয়ে আসা ও দুর্বলতা অনূভব হতে পারে।এটাই হার্ট অ্যাটাক।
(ভয়ঙ্কর ব্যাপার।এই কথাগুলো যখন লিখছি, তখন আমারও কেমন যেন গা ছমছম করছে।তবে অযথা মনে ভয় ধরে রাখলে হবে না,তাতে সমস্যা বাড়তে পারে বা তৈরি হতে পারে।মনে সবসময় বল রাখতে হবে,এবং মনটাকে সবসময় ফুরফুরে ও চাঙ্গা রাখতে হবে।হাসিখুশি, আনন্দ ও আড্ডা ইয়ার্কির মধ্যে থাকতে হবে।প্রতিদিন অন্তত দশমিনিট জোরে জোরে হাঁটুন,ও দিনের অন্তত একদুইবার কোন অবসরে জোরে জোরে শ্বাসপ্রশ্বাস নিন,যদি পারেন জায়গায় দাঁড়িয়ে দৌড়ান কিছুক্ষণ।ব্যস্,এতেই শরীর ঠিক থাকার কথা।বয়স হলে বা বংশে হার্টের সমস্যার প্রবণতা থাকলে নিয়মিত ডাক্তার দিয়ে চেকআপ করানো ভালো।)৩. মায়োকার্ডিটিস >>
বুকে ব্যথার সঙ্গে হৃৎপেশীতে প্রদাহের কারণে জ্বর আসতে পারে,ক্লান্তি, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা হতে পারে।এই ধরনের ব্যথার পিছনে কোন ব্লকেজের সমস্যা না থাকলেও এর লক্ষণও অনেকটা হার্ট অ্যাটাকেরই মতো।
৪. পেরিকার্ডিটিস >>
এটা অ্যানজাইনা সদৃশ ব্যথা।হৃৎপিণ্ডের চারিদিকে যে কোঠর সেখানে প্রদাহ বা ইনফেকশনের ফলে এই ব্যথা সৃষ্টি হয়।এ ক্ষেত্রে প্রায়ই ঘাড়ের উপর দিক থেকে কাঁধ পর্যন্ত একটা তীক্ষ্ণ, অবিচলিত ব্যথা অনুভূত হয়।কখনো কখনো শ্বাস নিতে, খাবার গিলতে বা চিৎ হয়ে শুতে গেলে এই ব্যথা আরো বেড়ে যায়।
৫. হাইপারট্রফিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি >>
এটা একটা বংশগত রোগ।এই রোগের ফলে হৃৎপিণ্ডের পেশী অস্বাভাবিক মোটা হয়ে বেড়ে উঠতে থাকে।কখনো কখনো এটা হৃৎপিণ্ডের বাইরে রক্তপ্রবাহে সমস্যা তৈরি করে।এক্সারসাইজ করলে বুকে ব্যথা হয় ও শ্বাসপ্রশ্বাস ছোট হয়ে আসে।বয়স বাড়তে থাকলে এই হৃৎপেশী অতিরিক্ত মোটা হয়ে গেলে হার্ট ফেলিওর হয়ে যেতে পারে।হৃৎপেশী বেশি মোটা হয়ে গেলে হৃৎপিন্ডের রক্ত পাম্প করতে কষ্ট হয়।বুকে ব্যথার সঙ্গে ঘুমঘুম ভাব, মাথাঘোরানো,মূর্চ্ছা যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৬. মিট্রাল ভাল্ভ প্রোল্যাপ্স >>
হৃৎপিণ্ডের কোন ভাল্ভ ঠিকমতো বন্ধ হতে না পারলে এই সমস্যা দেখা দেয়।এর ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, যেমন, বুকে ব্যথা,বুক ধড়ফড়,ঘুমঘুম ভাব।আবার এতে কোন লক্ষণ নাও দেখা দিতে পারে, যদি সমস্যাটা মৃদু হয়।
৭. করোনারি আর্টারি ডিসেকশন>>
এই সমস্যাটি বিরল,কিন্তু প্রাণঘাতী।যখন করোনারি আর্টারি, অর্থাৎ হৃৎপিণ্ডের ধমনীতে কোন ছিদ্র বা ফাটল তৈরি হয়।হঠাৎ করে ছিঁড়ে যাওয়া বা চিরে যাওয়ার মতো তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।এই ব্যথা ঘাড়,পিঠ ও পেটের মধ্যেও প্রবাহিত হয়।
![]() |
| Chest pain |
অন্যান্য কারণ-
★★★★★★★★★বুকে ব্যথা এছাড়া আরো অনেক কারণে হতে পারে।যেমন,
ফুসফুস জনিত কারণ-- প্লুরিটিস বা প্লুরিসি,নিউমোনিয়া বা লাঙ অ্যাবসেস,পালমোনারি এমবোলিজম,নিউমোথোরাক্স,পালমোনারি হাইপারটেনশন,অ্যাজমা ইত্যাদি।★★★★★★★★
Gastrointestinal problems >> Gastroesophageal reflux disease(GERD), Esophageal contraction disorders, Esophageal hypersensitivity, Esophageal rupture or perforation, Peptic ulcers,
Hiatal hernia,Pancreatitis, Gallbladder problems.
★★★★★★★★★
হাড়,পেশী ও স্নায়ুর সমস্যার কারণে>> Rib problems, Muscle strain, Shingles(ভাইরাস ইনফেকশন) ইত্যাদির কারণে বুকে ব্যথা হতে পারে।
এমনকি উদ্বেগ বা আতঙ্ক থেকেও বুকে ব্যথা হতে পারে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন