শনিবার, ৯ মার্চ, ২০১৯

ফ‍্যাটি লিভার ? সুস্থ থাকার মন্ত্র - Fatty liver ? How to stay healthy ?

ফ‍্যাটি লিভার ? সুস্থ থাকার মন্ত্র
Liver

ফ‍্যাটি লিভারের ফ‍্যাট ঝরিয়ে লিভারকে আবার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হলে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।

সঠিক সময়ে ঘুমোতে যাওয়া, রাত না জাগা এবং পরিপূর্ণ ঘুমের সাথে সঠিক পরিমাণে পরিশ্রম বা শরীরচর্চা করা,সঠিক পরিমাণে বিশুদ্ধ জল পান করা, ভালো করে স্নান করা, সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণে খাওয়াদাওয়া করা।সেইসঙ্গে নিয়ম মেনে নির্ধারিত কিছু খাবার গ্রহণ করা অতি জরুরী।অর্থাৎ একটা পরিকল্পিত ডায়েট প্ল্যান আপনাকে মেনে চলতে হবে।

ফ‍্যাটি লিভার কি ?

Fatty liver

লিভার শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ।
লিভার খাদ্য পরিপাকে,খাদ‍্য ভেঙে শক্তি উৎপাদন ও সেই শক্তির সঞ্চয়ে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত বর্জ্য নি:সরণে সাহায্য করে।
লিভারে ফ‍্যাটবডি তৈরি হতে থাকলে ফ‍্যাটি লিভারের সমস্যা তৈরি হয়।
দু'রকম কারণে ফ‍্যাটি লিভার তৈরি হয়-
১. অ্যালকোহল সেবনের ফলে ফ‍্যাটি লিভার হতে পারে
২. Non alcoholic fatty liver disease (NAFLD)
এটা দু'রকমের-
১. সাধারণ ফ‍্যাটি লিভার- এতে লিভারে ফ‍্যাট তৈরি হয়।লিভারে প্রদাহ হলেও সেটা খুব সামান্য বা প্রদাহ নাও হতে পারে।এতে লিভারের কোষেরও তেমন কোন ক্ষতি হয় না।
২. Non alcoholic steatohepatitis (NASH):-
লিভারে ফ‍্যাট তৈরি হয়,সেইসঙ্গে লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং লিভারের কোষ ড‍্যামেজ হতে থাকে।এবং লিভার কোষ ড‍্যামেজ হওয়ার কারণে লিভারের যেমন কাজ করার কথা লিভার তা করতে পারে না।ফলে বিভিন্ন রকম শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হয়।
NASH খারাপের দিকে যেতে পারে, এর ফলে লিভারে দাগ বা ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।এবং তা লিভার সিরোসিসের রূপ নিতে পারে।কিন্তু NASH সবসময় খারাপের দিকে যায় না।
বিশেষজ্ঞরা এখনো কি কারণে এই NASH হয়,তার কারণ নিরূপণ করতে পারেননি, তবে ধারণা করেন,হয়তো পরিবেশগত কোন কারণ বা বংশগত কারণ এর পিছনে থাকতে পারে।
NASH বা লিভার ড‍্যামেজ এর ক্ষেত্রে যে রিস্ক ফ‍্যাকটরগুলো দেখা যেতে পারে তা হল-

ওবেসেটি,ইনসুলিন রেসিস্ট‍্যান্স এবং টাইপ টু ডায়াবেটিস,হাই কোলেস্টেরল এবং হাই ট্রাইগ্লিসারাইডস্,মেটাবলিক সিনড্রোম
আবার এর মধ‍্যের কোন রিস্ক ফ‍্যাকটর নাও দেখা যেতে পারে।
তবে সাধারণত ৪০-৫০ বছর বয়স্কদের মধ্যেই ন‍্যাশ বা উপরের সমস‍্যাগুলো দেখা দিয়ে থাকে।

লক্ষণ:-

প্রথম পর্যায়ে NASH এর কোন সিম্পটম দেখা দেয় না,কিন্তু NASH এর অগ্রগতি ঘটতে থাকলে এবং লিভারের ড‍্যামেজ হতে থাকলে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি প্রকাশ পেতে থাকে-
ক্লান্তি (সবসময়ের জন্য),
ওজন হ্রাস (কোন কারণ ছাড়াই),
সাধারণ দুর্বলতা,
পেটের উপরের দিকে ডানদিকে ব‍্যথা অনুভূত হয়।
NASH লক্ষণ বোঝা যাওয়ার মতো গুরুতর পর্যায়ে যেতে অনেকদিন সময় লাগে।
NASH এর ডায়াগনোসিস করা হয় নিম্নোক্ত পরীক্ষা গুলির সাহায‍্যে,তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শক্রমে-
Blood tests,
An abdominal ultrasound,
A CT scan,
An MRI scan.
ডাক্তার লিভার বায়োপসির পরামর্শও দিতে পারে।

পড়ুন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আরও পোস্ট>>

চিকিৎসা:-

যে রিস্ক বা কারণগুলো NASH কে খারাপের দিকে নিয়ে যায় সেগুলো ম‍্যানেজ করার মাধ্যমেই এর চিকিৎসা করা হয়।যেমন-
১. টোটাল কোলেস্টেরল লেভেল কমাতে হবে,
২. স্বাস্থ্যসম্মত ওজন বজায় রাখতে হবে,
৩. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে,
৪. অ্যালকোহল বন্ধ করতে হবে,
৫. রেগুলার এক্সারসাইজ করতে হবে।
এমনকি যে ওষুধগুলো আপনি খাচ্ছেন তা লিভারের কোনরকম ক্ষতি করতে পারে কিনা তাও আপনার ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিন।কারণ,অনেক ওষুধ লিভারের পক্ষে ক্ষতিকারক।

খাদ্য:-


শাকসবজি:-

 প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ সবুজ ও রঙিন শাকসব্জী খেতে হবে।আদা,রসুন, মিষ্টি আলু ইত্যাদি।

ফল:-

প্রতিদিন অন্তত দুটি করে ফল খেতে হবে।প্রচুর পরিমাণে লেবু জাতীয় ফল আপেল,আঙুর(কালো),কলা ইত্যাদি।

প্রোটিন:-

মাছ,সিম বা বিন,বরবটি, মটরশুঁটি,চিকেন এর বুক খেতে হবে।

গোটা শস‍্য:- 

ভাত,বার্লি ইত্যাদি।

ডেয়ারি:- 

লো-ফ‍্যাট বা ফ‍্যাট-ফ্রি মিল্ক।

আনস‍্যাচুরেটেড ফ‍্যাট:-

আখরোট,চীনাবাদাম, ফ‍্যাটি ফিস ইত্যাদি।

ডায়েট প্ল‍্যান:-

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়ে খালি পেটে একটা পাতিলেবুর রস এক গ্লাস জলে গুলে খেয়ে নিন,সঙ্গে আর কিছু মেশাবেন না।লেবুর ফাইবারে থাকা পেকটিন কোলেস্টেরল কে পরিস্কার করে দেবে,লিভারকে সুস্থ রাখবে।
সকালের খাবার খান গরম ভাত,আর তার সঙ্গে ভাতের মধ্যে দিয়ে সেদ্ধ করা পেঁপে, গাজর,সিম ইত্যাদি সব্জি, ব‍্যস্,আর কিছু দরকার নেই।
দুপুরে খান মাছের ঝোল।সঙ্গে ডাল,সব্জি, শাক,টক ইত্যাদি রাখতে পারেন।
রাত্রে অল্প করে গরম ভাত,সঙ্গে সেদ্ধ বা সব্জি ইত্যাদি খেতে পারেন।
চেষ্টা করুন মাঝে মাঝে টক দই খাওয়ার,সপ্তাহে একদিন পারলে বাড়িতে পোষা মুরগি খান,মুরগির বুকের মাংস বিশেষ উপকারী।
কাঁচা মটরশুঁটি খাওয়ার চেষ্টা করুন।
মাঝে মাঝে চীনাবাদাম, আখরোট খান।
প্রতিদিন ফল খাওয়া খুব জরুরী।

আটার রুটি,ময়দার লুচি, কেক,বিস্কুট, বেকারির খাদ্য ,ভাজাপোড়া,ফাস্ট ফুড,প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলুন।
রান্নার কাজে রিফাইন তেলের বদলে খাঁটি সরষের তেল ব‍্যবহার করুন।
সারাদিনে উপযুক্ত পরিমাণে জল খান।
(চলবে)





৩টি মন্তব্য:

Vicky Cahyagi বলেছেন...

Nice info about healthy

Pronab Mondal বলেছেন...

Thanks

Dhaka Gastroliver Center বলেছেন...

৪ টি শর্ত মেনেই ফ্যাটি লিভার নিরাময় সম্ভবঃ

(১) প্রত্যহ নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা।
(২) সপ্তাহে দুই দিন রোজা রাখার অভ্যাস তৈরি করা।
(৩) নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়া
(৪) ওষুধ সেবন
ওবেটিকোলিক অ্যাসিড

বিস্তারিত জানতে, Dhaka Gatroliver Center
সহকারী অধ্যাপক, লিভার বিভাগ,
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
চীফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা গ্যাস্ট্রো-লিভার সেন্টার।
০১৭০৩-৭২৮৬০১

Featured post

শীতের স্বাস্থ্য-সমস্যা ও তার প্রতিকার How to heal the health problems of Winter season

শীতে পরুন গরম পোশাক শীত একটি সুন্দর মনোরম ঋতু।কিন্তু শীতকাল অনেকের কাছেই খুব সমস্যার, বিশেষ করে যাদের ঠান্ডার ধাত বা অ্যাজমা ইত‍্যাদি...