শনিবার, ২ মে, ২০২০

করোনা থেকে দূরে থাকবেন কিভাবে How to stayaway from Coronavirus

How to stayaway from Coronavirus
Wear mask, protect Coronavirus

করোনা ভাইরাস

করোনাভাইরাস যে মহামারী সৃষ্টি করেছে তাতে সমগ্র পৃথিবী ব্যাপী মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। কিন্তু আতঙ্কিত না হয়ে এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে, এই ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে, ভাইরাসটা কিভাবে সংক্রামিত হয় সেটা জানতে ও বুঝতে হবে এবং কিভাবে চললে এই সংক্রমণ এড়ানো যায় সেটা বুঝতে
হবে। ভাইরাস একটি অতি ক্ষুদ্র বস্তু। প্রাণী দেহের বাইরে এটা জড়পদার্থের মতো আচরণ করে ও প্রাণীদেহের মধ্যে এটি জীবিত পদার্থের মতো আচরণ করে। খালি চোখে দেখা যায় না। শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে একে দেখতে হয়। অর্থাৎ এটা একটি অদৃশ্য ঘাতক, অদৃশ্য শত্রু। চোখে দেখা যায় না, তাই সামনাসামনি এর মোকাবেলা করা যায় না। এর বিরুদ্ধে লড়াই অনেকটা অন্ধকারে কানামাছি খেলার মত ব্যাপার বা বলা যায় চোখ বেঁধে যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর সঙ্গে লড়াই করার মতো ব্যাপার। তাই এই ভাইরাস আরো বেশি ভয়ঙ্কর। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য  অস্ত্রশস্ত্র কোন কাজে লাগবে না, কাজে লাগবে কিছু সচেতন পদ্ধতি প্রকরণ, যা প্রতিমুহূর্তে সচেতনভাবে পালন করা দরকার। যেমন ধরুন, আপনি বাড়ির বাইরে গেলেন, রাস্তায় গেলেন, বাজারে গেলেন বাজার করতে, অফিসে গেলেন, ডাক্তারখানায় গেলেন বা পঞ্চায়েত অফিসে গেলেন কোন কাজের জন্য বা জরুরী প্রয়োজনে। তখন আপনি কি কি সর্তকতা অবলম্বন করবেন?
Use mask & hand-wash

সতর্কতা- যখন আপনি বাইরে

 প্রথমেই বলে রাখি ভাইরাস আপনার শরীরের যেকোনো অঙ্গের সংস্পর্শে আসতে পারে। মাথার চুল থেকে শুরু করে পায়ের জুতো বা যে জামাকাপড় আপনি পরে আছেন বা আপনার হাত-পা, যেসব জিনিস আপনি হাত দিয়ে ধরছেন, যেসব জিনিসের সংস্পর্শে আসছেন, সেখান থেকে ভাইরাস আপনার শরীরের সংস্পর্শে আসতে পারে বা শরীরে প্রবেশ করতে পারে। চোখ নাক মুখ দিয়ে ভাইরাস আপনার শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে, পারলে চশমা বা সানগ্লাস পরুন। অন্যের হাঁচি কাশির মধ্য দিয়ে ভাইরাস আপনার শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই অন্যের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে থাকুন, যাতে কেউ হাঁচি বা কাশি দিলে মুহূর্তে আপনি নিজের দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন। যত বেশি পারা যায় জনসমাগম এড়িয়ে চলুন। অন্যের থেকে দূরত্ব রাখুন। মানুষ বা যে কোন বস্তুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। যেখানে সেখানে হাত দেবেন না, যা তা ধরবেন না। যত কম ধরাধরি বা স্পর্শ করে পারা যায় সেই চেষ্টা করুন। রাস্তায় বাজারে কোথাও থুথু ফেলবেন না।


Wash hands regularly

সতর্কতা- বাড়িতে

 বাড়িতে প্রবেশের আগে অবশ্যই যেকোনো ডিটারজেন্ট পাউডার বালতিতে গুলে নিন। তার ফেনা দিয়ে ভালো করে আপনার জুতো পা ধুয়ে নিন  বা সাবান জলে ধুয়ে নিন। সাবান দিয়ে হাত ভালো করে ধুয়ে নেবেন। জামাকাপড় জুতো বাইরে ছাড়বেন এবং বাইরে থেকে ডিটারজেন্ট দিয়ে কেচে নিয়ে তারপরে ঢুকবেন। বাইরে দাঁড়িয়ে স্নান করুন সাবান ঘষে। অর্থাৎ নিজেকে এবং নিজের পোষাক আশাক জুতো সবকিছু ডিটারজেন্ট পাউডার এর ফেনা বা সাবান দিয়ে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করে তারপর ঘরে প্রবেশ করুন। আর আপনার সঙ্গে যে ব্যাগপত্র বাজারঘাট সেগুলো বাইরে রাখুন। যা যা সম্ভব ডিটারজেন্ট পাউডারের জলে ধুয়ে নিন। এগুলো মিনিমাম কুড়ি সেকেন্ড করেধুতে হবে। এই কাজটা  সাবান বা ডিটারজেন্ট কম করে কুড়ি সেকেন্ড থাকলে ভাইরাস নষ্ট হয়ে যায়। কুড়ি সেকেন্ড ধরে ডিটারজেন্টের ফেনার সংস্পর্শে এলে ভাইরাসের শরীরের যে বাইরের অংশ খোলস সেটা ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ভাইরাস মারা যায়। অতএব জামাকাপড় অন্তত 30-40 সেকেন্ড ভিজিয়ে রাখুন ডিটারজেন্টের ফেনার মধ্যে এবং সমস্ত গায়ে সাবান বা হাতমুখ অন্তত 30 সেকেন্ড সাবানের ফেনার সংস্পর্শে রাখুন। তাহলে ভাইরাস মারা যাবে। যে টাকা পয়সা আপনি নিয়ে যাচ্ছেন বা নিয়ে এসেছেন সেগুলো ডিটারজেন্টের জলে কুড়ি সেকেন্ড চুবিয়ে রেখে ধুয়ে নিন। মোবাইল নিয়ে না বেরোনোই ভালো।যদিওবা বেরিয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই তুলোতে স্যানিটাইজার মাখিয়ে সেই সেনিটাইজার মাখানো তুলো দিয়ে মোবাইলটা ভালো করে মুছে নিন। অতএব আপনি বাইরের থেকে যা  ভিতরে আনবেন সবকিছুকে সেনিটাইজ করে নিন। যেগুলো সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে সম্ভব নয় সেগুলো রোদ্দুরে রেখে দিন, 2-3 দিন বাইরে ফেলে রাখুন, তারপর হাত দিন বা ব্যবহার করুন।
Eat vegetables & fruits

খাওয়াদাওয়া, শরীরচর্চা, ইমিউনিটি

Hot tea everyday

সকালে বিকালে নিয়মিত গরম জল, গরম দুধ, গরম চা পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দিনে অন্তত তিন চার বার গরম পানীয় পান করুন। শরীরে রোগ-প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে এরকম খাবার খান। ভিটামিন সি যুক্ত সবুজ শাকসবজি ফলমূল। অবশ্যই সাবধানতার সঙ্গে, সেগুলো ভালো করে জীবাণুমুক্ত করে পরিষ্কার করে তারপরে খাবেন। রসুন খান। রসুনে জিঙ্ক থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। দুগ্ধজাত দ্রব্য পনির, টক দই খান। তাতে ভিটামিন বি টুয়েলভ থাকে। ডিম খান , মাছ, মাংস, ডাল, সয়াবিন খান। এদের প্রোটিন  শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। শরীরচর্চা করলে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।  খালিহাতে ব্যায়াম করুন। ভারী কোন ব্যায়াম করার দরকার নেই, হালকা পাতলা ব্যায়াম করুন, উঠবস করুন, জায়গায় দাঁড়িয়ে দৌড়ান। কাজের মধ্যে থাকুন। শারীরিক পরিশ্রম করুন।
Intake proteins & vitamins

ঘরে থাকুন, নিরাপদ থাকুন

Stay home, stay safe

বাইরে বেরোবেন না। ঘরের মধ্যে যতটা সম্ভব থাকার চেষ্টা করুন। খুব বেশি দরকার না হলে বাইরে বেরোনোর দরকার নেই। মনে রাখবেন ভাইরাস বাইরে দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আপনি গেলে আপনাকে জড়িয়ে ধরবে -এরকমভাবে ভাবুন এবং ভাইরাস থেকে দূরে থাকার জন্য ঘরে থাকুন। ভালো না লাগলেও ঘরে থাকুন। বাড়িতে বৃদ্ধ মানুষ থাকলে তাদের সম্পর্কে অতিরিক্ত সচেতন হোন। তার কারণ, এই ভাইরাস বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের আক্রমণ করছে সবচেয়ে বেশি। কারণ তাদের ইমিউনিটি শক্তি কম। নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন। পরিবারের সমস্ত সদস্যকে হাত ধুতে বলুন কিছুক্ষণ অন্তর অন্তর সাবান দিয়ে। বাইরের লোকের সঙ্গে মেলামেশা বা পাড়ার লোকের সঙ্গে আড্ডা তাস খেলা দাবা খেলা গল্প-গুজব করা এগুলো এড়িয়ে চলুন। একদম অসামাজিক হয়ে যান। সমস্ত সামাজিকতা, সামাজিক মেলামেশা এড়িয়ে চলুন। বেঁচে থাকলে অনেক সামাজিকতা করা যাবে। বাড়িতে বাইরের কোন লোককে এলাউ করবেন না, নিজেও বাইরে কারো সঙ্গে দেখা করতে যাবেন না।
Don't step outside

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মেনে চলুন

বাইরে থেকে আসা কোন জিনিস, খাদ্যদ্রব্য এসব সব সময় সেনিটাইজ করে নেবেন। বাড়িকে জীবাণুমুক্ত রাখবেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন, ডিটারজেন্টের জল দিয়ে মাঝে মাঝে উঠোনের মেঝে বা বারান্দার মেঝে ধুয়ে নিতে পারেন। সেটা সেনিটাইজ করার একটা ভালো নিরাপদ পদ্ধতি। একইভাবে বাথরুম টয়লেট গুলো ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে দিতে পারেন। সেটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বাড়ির আসবাবপত্র, বাসনপত্র এগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। বাইরে থেকে আসার পর জামাকাপড় ব্যাগ পত্র কখনোই ঘরের মধ্যে তুলবেন না।

সামান্যতম সর্দিকাশি হলেও গরম জল,গরম চা পান করুন ঘন ঘন। জ্বর-সর্দিকাশি মানেই করোনা নয়। অযথা ভয় পাবেন না। প্রয়োজনে ফোনে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে নিন।
  ভালো থাকুন। নিরাপদে থাকুন। সুস্থ থাকুন।।
Keep social distance

কোন মন্তব্য নেই:

Featured post

শীতের স্বাস্থ্য-সমস্যা ও তার প্রতিকার How to heal the health problems of Winter season

শীতে পরুন গরম পোশাক শীত একটি সুন্দর মনোরম ঋতু।কিন্তু শীতকাল অনেকের কাছেই খুব সমস্যার, বিশেষ করে যাদের ঠান্ডার ধাত বা অ্যাজমা ইত‍্যাদি...