![]() |
| দ্বিপ্রহরের জ্বলন্ত সূর্য |
গরমের প্রাথমিক সচেতনতা
পড়ে গেল জৈষ্ঠ মাস। এই জৈষ্ঠ্যের যে প্রচন্ড চরম গরম তা সহ্য করা মুশকিল। রোদ্দুরে বেরোলে চামড়া যেন ঝলসে যাচ্ছে। ঘরে বসে থাকলেও, এমনকি ফ্যানের তলাতেও দরদর করে ঘামতে হচ্ছে। একদিকে গরম তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আর্দ্রতা, ফলে অস্বস্তিও বেশি। এই গরম এবং অস্বস্তি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য অন্তত দু-তিনবার স্নান করা জরুরি। তাছাড়াও ঘন্টায় ঘন্টায় হাত মুখ ধোয়া, সম্ভব হলে গা ধোয়া জরুরী। শরীরের হাতমুখ জলে যত ধোয়া হবে শরীর যত সুস্থ থাকবে, ফ্রেশ থাকবে, আরাম পাওয়া যাবে।
জলের ছোঁয়াই এই সময়ে সব চেয়ে বেশি আরামদায়ক। সেই সঙ্গে খেতে হবে প্রচুর জল। বারবার ফ্রেশ জল খেতে হবে। এতে শরীরের ভিতরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলো জল পাবে, সতেজ থাকবে, শরীর সতেজ থাকবে। শরীরের ভিতরে এবং বাইরে এই সময় জলের অভাব ঘটলে অর্থাত অধিক ডিহাইড্রেশন হলে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়বে। সেই সঙ্গে যদি রোদ্দুর লাগে, তাপের হালকা লাগে, তাহলে হতে পারে সানস্ট্রোক, হিট স্ট্রোক। মানুষ মুর্ছা যেতে পারে, জ্ঞান হারাতে পারে। তাই রোদের থেকে দূরে থাকতে হবে, রোদের তাপ গায়ে লাগতে দেওয়া যাবে না। নিতান্তই রোদ্দুরে বের হতে হলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করতে হবে, সঙ্গে রাখতে হবে সব সময় জলের বোতল। মাঝে মাঝে জল খেয়ে নিতে হবে, মুখে দিতে হবে জলের ঝাপটা। হাত মুখ ঘাড় মাঝে মাঝেই জলে ধুয়ে নিতে হবে। সম্ভব হলে পা দুটো জলে ভিজিয়ে নিতে হবে মাঝে মাঝে। রোদ্দুরে গরমে অত্যধিক শারীরিক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রচুর ঘাম হলে জল খেতে হবে প্রচুর। এইভাবে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জলের ঘাটতি পূরণ করতে হবে জল খেয়ে খেয়ে।
জলের ছোঁয়াই এই সময়ে সব চেয়ে বেশি আরামদায়ক। সেই সঙ্গে খেতে হবে প্রচুর জল। বারবার ফ্রেশ জল খেতে হবে। এতে শরীরের ভিতরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলো জল পাবে, সতেজ থাকবে, শরীর সতেজ থাকবে। শরীরের ভিতরে এবং বাইরে এই সময় জলের অভাব ঘটলে অর্থাত অধিক ডিহাইড্রেশন হলে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়বে। সেই সঙ্গে যদি রোদ্দুর লাগে, তাপের হালকা লাগে, তাহলে হতে পারে সানস্ট্রোক, হিট স্ট্রোক। মানুষ মুর্ছা যেতে পারে, জ্ঞান হারাতে পারে। তাই রোদের থেকে দূরে থাকতে হবে, রোদের তাপ গায়ে লাগতে দেওয়া যাবে না। নিতান্তই রোদ্দুরে বের হতে হলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করতে হবে, সঙ্গে রাখতে হবে সব সময় জলের বোতল। মাঝে মাঝে জল খেয়ে নিতে হবে, মুখে দিতে হবে জলের ঝাপটা। হাত মুখ ঘাড় মাঝে মাঝেই জলে ধুয়ে নিতে হবে। সম্ভব হলে পা দুটো জলে ভিজিয়ে নিতে হবে মাঝে মাঝে। রোদ্দুরে গরমে অত্যধিক শারীরিক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রচুর ঘাম হলে জল খেতে হবে প্রচুর। এইভাবে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জলের ঘাটতি পূরণ করতে হবে জল খেয়ে খেয়ে।
মানিয়ে চলুন গরমের সাথে
একটা কথা মনে রাখতে হবে, শীত গ্রীষ্ম বর্ষা- এটা প্রকৃতিরই নিয়ম। এরা পালা করে করে আসবে। এটাই আমাদের দেশের স্বাভাবিক জলবায়ু। এই জলবায়ুকে স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নিতে হবে এবং নিজেকেও এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। নিজের শরীর ও মনকে এদেশের প্রকৃতির জলবায়ুর স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে। জলবায়ুর তারতম্যের সঙ্গে শরীর ও মনের এই মানিয়ে নিয়ে চলার ক্ষমতাই হচ্ছে স্বাভাবিক সুস্থতা। শরীরকে এর সঙ্গে অভ্যস্ত করে নিতে হবে। তাহলে শরীর সুস্থ থাকবে। এই জলবায়ুকে এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। এটাই আমাদের প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দ। এই ছন্দের সঙ্গে নিজের শরীরের ছন্দ মেলাতে হবে। তাহলেই ভালো থাকা যাবে। কৃত্রিম উপায় অবলম্বনের পরিবর্তে আমরা যত প্রাকৃতিক নিয়মে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে চলবো ততই আমরা প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে পারব এবং প্রকৃতির ছন্দে ছন্দে নিজেরাও স্বাভাবিক ছন্দে চলতে পারব এবং সুস্থ ও ফিট থাকতে পারবো।
গরমের খাবার দাবার
এই সময় জল বেশি খেতে হবে এবং যথাসম্ভব জলীয় ও তরল খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। যেমন, তরকারির ঝোল, সবজির ঝোল, লাউয়ের তরকারি, কুমড়োর তরকারি। শসা আম কাঁঠাল তরমুজ ইত্যাদি ফল শরীরকে সতেজ রাখবে, শরীরে জলের চাহিদা পূরণ করবে ও ডিহাইড্রেশন থেকে শরীরকে বাঁচাবে। সম্ভব হলে পাতি লেবুর জল খান, পাতি লেবুর শরবত খান। কিন্তু আইসক্রিম কুলফি ঠান্ডা পানীয় এসব এড়িয়ে চলুন। তার পরিবর্তে ঠান্ডা জল খান। তবে ফ্রিজের অতি ঠান্ডা জল না খাওয়াই ভালো। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। ঠান্ডা লেগে যেতে পারে, গলা বসে যেতে পারে বা সর্দি কাশি হতে পারে বা বুকে শ্লেষ্মা জমে যেতে পারে। সবুজ ও রঙিন শাকসবজি খান, পুঁইশাক খান, লাউ শাক খান- এতে শরীর ঠান্ডা থাকবে। আর হ্যাঁ, ডাবের জল এই সময় অতি উত্তম। সম্ভব হলে বা সুযোগ পেলেই ডাবের জল খান। তবে ভাজাপোড়া, চপ, পকোড়া, ভাজা ভুজি এই সময় একদম খাবেন না। এসব খাবার শরীরের জল শুষে শরীরকে শুষ্ক করে দেয়। এই সময় মাঝেমাঝেই টক দই খান। টক দই শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং গরমে পেটের অসুখের রোগ জীবাণু ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস ক'রে গ্রীষ্মকালীন পেটের অসুখ থেকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।
![]() |
| টক দই |
গরমে গৃহপরিবেশ
যতটা সম্ভব ছায়াতে থাকার চেষ্টা করুন। ফ্যানের তলায় থাকুন। লোডশেডিং হলে হাত পাখার বাতাস করুন, আরাম নিন। সম্ভব হলে পুকুর পাড়ে যান, বাতাস খান গাছের ছায়ায় বসে। অতিরিক্ত গরমে মেঝে বা উঠোন গরম হয়ে যায়। তাই সম্ভব হলে ঘরের মেঝে বারবার ঠান্ডা জল দিয়ে মুছুন। উঠোনে ঠান্ডা জল ঢেলে দিন বারবার। উঠোনে রোদ পড়ে মাটি গরম হয়ে সেখান থেকে বাতাসের গরম হালকা উঠে ঘরের মধ্যে ঢুকে গায়ে এসে লাগে। উঠোনে জল ঢেলে দিয়ে উঠোন ভিজিয়ে দিলে উঠোনের মাটি ঠান্ডা থাকে, মাটি শুকিয়ে জলীয় বাষ্প হয়ে বাতাসের তাপ শোষণ করে নেয়। ফলে বাতাস ঠান্ডা থাকে। বাড়িতে ভেজা কাপড়, খসখস ঝুলিয়ে রাখুন। বিভিন্ন জায়গায়, উঠোনে টবে বিভিন্ন গাছ সাজিয়ে রাখুন। এতে মাটি কম গরম হবে, ফলে বাতাস গরম হবে কম। বাড়ির আশেপাশে বিভিন্ন গাছ থাকলে সুবিধা, বাড়ি ঠান্ডা থাকে। ছাদ গরম হয়ে গেলে মাঝে মাঝে জল দিন, ছাদ ঠান্ডা রাখুন, বা ছাদের উপর কাপড় টাঙিয়ে দিন বা তাঁবু টানিয়ে দিন যাতে সরাসরি ছাদে রোদ না লাগে। কিংবা ছাদের উপরে ফুল গাছের চারা টবে করে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রাখা যেতে পারে, এতেও ছাদ কম গরম হয়।
গরমের চলাফেরা
এই সময় আপনাকে যথেষ্ট হিসেব করে চলতে হবে। বাজার করা, দৌড়াদৌড়ি ছুটাছুটি কাজ থাকলে সকালে বা বিকেলে করার চেষ্টা করতে হবে। দুপুরের রোদ এবং গরমকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। দুপুরের রোদটা এবং গরম টা খুবই মারাত্মক, শরীরের পক্ষে খুবই খারাপ। বাইরে বেরোতে হলেও যথাসম্ভব ছায়াশীতল পথ ধরে চলার চেষ্টা করতে হবে। হাঁটার পরিবর্তে গাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে, সঙ্গে থাকবে অবশ্যই ছাতা ও জলের বোতল। সেই সঙ্গে অবশ্যই রুমাল রাখতে ভুলবেন না। বারবার ঘাম মুছে নিতে হবে। এতে শরীর ভালো থাকবে। আর পরতে হবে অবশ্যই পাতলা সুতির পোশাক। এবং অবশ্যই কাল বা গাঢ় রঙের নয়, সাদা বা হালকা রঙের পোশাক পরতে হবে। অযথা কৃত্রিম কোন লোশন লাগানোর দরকার নেই। শরীরকে প্রকৃতির সঙ্গে মিশতে দিন। অযথা কৃত্রিম বিভেদ তৈরি করার কোন দরকার নেই।
এতে প্রকৃতির সঙ্গে শরীরের দূরত্ব তৈরি হবে। ফলে প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে অসুবিধা হবে। প্রকৃতির স্বাভাবিক রোদের তাপ ও জল বাতাস এর সঙ্গে শরীর যত অভ্যস্ত হয়ে উঠবে আমরা ততই সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকতে পারবো। শরীরকে প্রকৃতির সঙ্গে যুঝতে দিন, শরীরকে প্রকৃতির সঙ্গে মিশতে দিন।
গরমে থাকুন সুস্থ
গরমের রোগ-জীবাণুর থেকে আমাদের মুক্ত থাকতে হবে। এইজন্য পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত জল পান করতে হবে। শরীরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সাবান দিয়ে স্নান করতে হবে, গা ধুতে হবে, হাতমুখ সাবান দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। খাওয়ার আগে ঘামে ভেজা পোশাক গুলো বারবার না পরে কাচতে হবে, বারবার পরিষ্কার করতে হবে। এই সময় মশা মাছির উৎপাত বেশি থাকে। খাবারে যেন মাছি না পড়ে সেদিকে নজর রাখতে হবে। খাবার ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। বাজারে গিয়ে খোলা খাবার খাওয়া যাবে না, ফুট পথের কাঁটা ফল বা খোলামেলা খাবার, অপরিচ্ছন্ন ভাবে তৈরি খাবার খাওয়া যাবেনা। রাস্তাঘাটে দোকান বাজারে যেখান সেখান থেকে জল না খেয়ে জলের বোতল কিনে জল খান।
![]() |
| গরমে খান লেবুজল |
গরমের পরিচ্ছন্নতা
বাড়ির পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখুন। আশেপাশে ঝোপ-জঙ্গল নালা নর্দমা পরিস্কার রাখুন। যেখানে সেখানে জল জমতে দেবেন না বা যেখানে সেখানে নোংরা ফেলবেন না। বাড়ির নোংরা আবর্জনা একটা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলুন। মশা মাছির বংশ বৃদ্ধি করতে দেবেন না। ঝোপ জঙ্গল নর্দমা এগুলো মশা মাছির বাসস্থান। এগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। বাড়িতে ফিনাইল ব্যবহার করুন। ফিনাইল বা ডেটল মিশিয়ে ঘরের মেঝে পরিষ্কার করুন। পায়খানা বাথরুমে ফিনাইল দিন বা ফিটকিরির জল দিয়ে ধুয়ে দিন। এইভাবে মশা মাছি পোকামাকড় থেকে দূরে থাকুন, রোগ জীবাণু থেকে মুক্ত থাকুন।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন