বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২০

ভারত ও চীন ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র সমূহ India and China and the neighbouring countries


ভারত  ও চীন এশিয়ার দুটি বৃহৎ শক্তিশালী রাষ্ট্র, পাশাপাশি প্রতিবেশী।  দুজনেই অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে বলীয়ান।
Ladakh

চীন ও ভারত বৃহৎ রাষ্ট্র। ফলে তাদের চারপাশে অনেকগুলি প্রতিবেশী রাষ্ট্র রয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র চীন ও ভারত উভয় রাষ্ট্রের  মাঝেই তাদের অবস্থান, যেমন, পাকিস্তান নেপাল ভুটান মায়ানমার। 
ভারত ও চীনের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং এইসব প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভারত ও চীনের সম্পর্ক  পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। 
এক্ষেত্রে পাকিস্তানের অবস্থান একটু অন্যরকম। পাকিস্তান এবং ভারত যেন চিরশত্রু, আর চিন আর পাকিস্তান যেন অভিন্নহৃদয় বন্ধু।
তাছাড়া ভারতের চারপাশের অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র গুলির সঙ্গে ভারত সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলে এবং চলতে ভালোবাসে এবং তাদের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম সমস্যা উপস্থিত হতে পারে, কিন্তু সে সবকিছুকে পিছনে ফেলে ভারত মোটামুটি ভাবে তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। তাদের প্রতি ভারতের কোন আগ্রাসী কার্যকলাপ চোখে পড়ে না। কিন্তু চীনের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঠিক তার উল্টো। 
লাদাখ

চিন তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রেগুলির প্রতি আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে চলেছে। চিন তো স্বাধীন তিব্বত রাষ্ট্রটিকে পুরোপুরি দখল করে নিল। এ কাজ করার জন্য চীন যে কৌশল অবলম্বন করল সেটা হল, তিব্বতের মধ্যে কমিউনিজমের প্রসার। কমিউনিস্ট আন্দোলন তিব্বতের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল। তিব্বত কমিউনিস্ট আন্দোলনের উত্তাল হল।তারপর স্বাধীন তিব্বতের কমিউনিস্ট নেতৃত্ব তিব্বত রাষ্ট্রটিকে চীনের হাতে তুলে দিল। এইভাবে স্বাধীন তিব্বত রাষ্ট্রের অবসান ঘটলো। তিব্বত তার স্বাধীনতা হারালো।
PangGong lake
বর্তমানে নেপালের মধ্যেও সেই লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। নেপালে এখন কমিউনিস্ট সরকার। নেপালের সঙ্গে ভারতের সুদীর্ঘকালের বন্ধুত্ব।নেপালের কমিউনিস্ট সরকার এখন ভারতের সেই বন্ধুত্বকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে চাইছে এবং চীনের কোলে মাথা রাখতে চাইছে। তাহলে তিব্বতের মতো নেপালেও প্রথমে কমুনিজমকরণ হলো। এরপর নেপালের পরিণতি তিব্বতের মতো হবে কিনা সেটা ভবিষ্যতই বলবে। তবে ভারতের মত বন্ধুকে স্বেচ্ছায় ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া কূটনৈতিকভাবে বড় রকম বোকামির পরিচয় বলে মনে হয়। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ককে স্বেচ্ছায় নষ্ট করা রাষ্ট্রনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় নয়। এবং নেপাল এখানে সেই কাজটাই করেছে।ভারতের সঙ্গে নেপালের সম্পর্ক যদি তিক্ততার পর্যায়ে চলে যায় এবং চীন যদি নেপালে আগ্রাসন চালায় তাহলে নেপালের স্বাধীন অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
চীনও সেটাই চায়। চীনের কূটনৈতিক স্ট্র্যাটেজি হল ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র গুলোকে ভারতের থেকে দূরে সরিয়ে আনা এবং ক্রমে সেই রাষ্ট্রগুলিতে নিজের আধিপত্য কায়েম করা। এক্ষেত্রে চীন যে কৌশলটি ব্যবহার করছে সেটা হল টাকা। চীন এইসব রাষ্ট্রগুলিকে অর্থ সাহায্য করছে এবং শুধু তাই নয়, এই সব রাষ্ট্রের নেতৃত্বকেও গোপনে উপঢৌকন দিয়ে কিনে নিচ্ছে। অর্থের লোভে এরা বিকিয়ে যাচ্ছে।

চীন জানে এই উপমহাদেশে বা দক্ষিণ এশিয়াতে তার আধিপত্য কায়েমের পথে ভারত সবচেয়ে বড় বাধা। তাই চীনের কূটনীতির পাখির চোখ হলো ভারতকে দুর্বল করা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে, দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোকে এটাই বুঝিয়ে দেওয়া যে সে ভারতের থেকে শক্তিশালী, সে ই দাদা, অতএব সবাই তাকেই বড় দাদা বলে মনে করো। এইভাবে ভারতকে ছাপিয়ে দক্ষিণ এশিয়াতে নিজের দাদাগিরি প্রতিষ্ঠা করাই চীনের প্রধান লক্ষ্য।
ভারতকে দাবিয়ে রেখে নিজের দাদাগিরি প্রতিষ্ঠা করাই চীনের এখন প্রধান লক্ষ্য তা ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছে। সেটা করতে গিয়ে চীন ভারতের ভূখণ্ডে আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করব, ভারতের সঙ্গে সংঘাতে জড়ালো, নিজের প্রাধান্য ও শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব বোঝানোর জন্য। কিন্তু এটা করে চীন নিজের সর্বনাশের রাস্তা তৈরি করল। কিরকম? চীনের আজ এত বাহাদুরি, এত অর্থনৈতিক উন্নতি, এত সামরিক শক্তি - সেটা ভারতের বৃহত্তর বাজারের জন্য। ভারতে উচ্চ ক্রয়ক্ষমতা সম্পন্ন বাজার চীনকে অর্থনৈতিকভাবে প্রভূত শক্তিশালী করেছে। এই বৃহৎ বাজার এখন যদি মুখ ঘুরিয়ে নেয়, চীনা পণ্য বয়কট করে তাহলে চীনের অর্থনীতি অর্ধেকটা ধ্বসে যাবে। চীন অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে গেলে না নেপাল তার সাথে গলাগলি করবে, না প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলি তাকে গুরুত্ব দেবে। তিব্বতকেও ধরে রাখা তার পক্ষে কঠিন হবে। কারণ, ভারতের সঙ্গে যে মাত্রার শত্রুতা চীন করে চলেছে তাতে ভারত যে তিব্বতের স্বাধীনতায় সাহায্য করবে তার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে চীনের আগ্রাসন এবং দাদাগিরির বিরুদ্ধে ভারত যদি শক্তভাবে রুখে দাঁড়ায় এবং আমেরিকা-ইউরোপ যদি চীনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে, সাম্রাজ্যবাদী দখলদারি মানসিকতার বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দাঁড়ায় তাহলে চীনের প্যান্ট খুলে পড়বে, নিজের লজ্জাটুকুও আর নিবারণ করতে পারবেনা চীন। 
Ladakh valley

দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর ইতিহাসে যখনই একনায়কতন্ত্র স্বৈরাচারী নেতৃত্ব মাথা তুলেছে তখনই বড় রকমের অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্রের নেতৃত্তের পতনের মধ্য দিয়ে সেই রাষ্ট্রেরও পতন ঘটেছে। চীনেও সেই লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। একনায়কতন্ত্রী শাসক হিসেবে শি জিনপিং এর উত্থান পৃথিবী কে আবার নতুন হিংসার মুখে ঠেলে দিল বলে মনে হচ্ছে। শি জিনপিংয়ের একনায়কতন্ত্রী স্বৈরাচার, দখলদারি মানসিকতা সাফল্যমন্ডিত হবে বলে মনে হয় না। কারণ, অর্থনৈতিকভাবে ও সামরিকভাবে ভারত দুর্বল রাষ্ট্র নয় এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ভারত বন্ধুহীন নয়। বিশ্বব্যাপী ভারতের অনেক শক্তিশালী গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু রয়েছে। এসবকে উপেক্ষা ক'রে, অগ্রাহ্য ক'রে ভারতের সঙ্গে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করতে এসে চিন মনে হচ্ছে নিজের পতনের রাস্তাই তৈরি করল। চীনের পতন ঘনিয়ে আসছে আর সেটাই হওয়া উচিত। একনায়কতন্ত্র মানব সভ্যতায়, বিশেষ করে বর্তমান আধুনিক মূল্যবোধের দুনিয়ায়, ব্যক্তিস্বাধীনতার দুনিয়ায় সম্পূর্ণ অবান্তর। সাম্য মৈত্রী স্বাধীনতা গণতন্ত্রের উদারপন্থী ভাবধারায় একনায়কতন্ত্র গ্রহণযোগ্য নয়। একনায়কতন্ত্রের পতনই কাম্য।
লাদাখ উপত্যকা

কোন মন্তব্য নেই:

Featured post

শীতের স্বাস্থ্য-সমস্যা ও তার প্রতিকার How to heal the health problems of Winter season

শীতে পরুন গরম পোশাক শীত একটি সুন্দর মনোরম ঋতু।কিন্তু শীতকাল অনেকের কাছেই খুব সমস্যার, বিশেষ করে যাদের ঠান্ডার ধাত বা অ্যাজমা ইত‍্যাদি...