CAA কি ?
CAA ,ফুল ফর্ম, Citizenship Amendment Act. অর্থাৎ নাগরিকত্ব সংশোধন আইন। পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে আগত হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পার্শী, জৈন ও শিখ এই ছয়টি ধর্মসম্প্রদায়ের মানুষ, জীবনের নিরাপত্তার কারণে যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বিবেচিত হবেন না, শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন,
এবং তারা ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন, যদি তারা ২০১৪ সালের ৩১ শে ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে প্রবেশ করেন। এই আইনের মাধ্যমে ২০০৩ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বলে এই ছয়টি ধর্মসম্প্রদায়ের মানুষ যারা ২০১৪ সালের ৩১ শে ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন তাদের উপর থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী তকমা উঠে গেল।
এবং তারা ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন, যদি তারা ২০১৪ সালের ৩১ শে ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে প্রবেশ করেন। এই আইনের মাধ্যমে ২০০৩ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বলে এই ছয়টি ধর্মসম্প্রদায়ের মানুষ যারা ২০১৪ সালের ৩১ শে ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন তাদের উপর থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী তকমা উঠে গেল।
এই আইনটি কেবলমাত্র শরণার্থীদের জন্য প্রযোজ্য, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য নয়। এবং আইনটি শরণার্থীদেরকে নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে, কারোর নাগরিকত্ব হরণ করবে না এই আইন।
দেশভাগের ফলে দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছেন, এবং পাকিস্তানে এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হবার কারণে নির্যাতনের শিকার, এবং তার ফলে, বা নির্যাতনের ভয়ে যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের প্রতি সুবিচারের জন্য এই আইন পাশ করা হয়েছে। এককথায়, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও দেশভাগজনিত কারণে যারা সেই স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, এবং ভারতে নাগরিক অধিকার পাওয়ার বদলে উদ্বাস্তু হিসেবে বাস করছেন, তাদের নাগরিকত্বের অধিকার দিয়ে পরিপূর্ণ নাগরিক হিসেবে ভারতে বাস করার অধিকার দানের জন্যই এই আইন পাশ হয়েছে।
ভ্রান্তি ও বাস্তবতা
আইনটি পাশ হবার সঙ্গে সঙ্গে এর বিরুদ্ধে সারা দেশ জুড়ে কয়েক শ্রেণির মানুষ বিক্ষোভ ও চেঁচামেচি করে একটা অশান্তি ও গোলমালের সৃষ্টি করছেন। তারা বলছেন, এই আইনের ফলে নাকি সংবিধানের সমতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ লঙ্ঘিত হয়েছে।
কিন্তু মনে রাখতে হবে, সংবিধানে ন্যায় প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। এবং যে যা থেকে বঞ্চিত তাকে তাই দেওয়াই হচ্ছে "ন্যায়"। উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব ছিল না, তাদের নাগরিকত্বের দরকার ছিল, তাই এই আইনের মাধ্যমে তাদের নাগরিকত্ব দানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, এর তাদের প্রতি ন্যায় করা হয়েছে, আর এটা করতে গিয়ে অন্য কারো নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়নি, অর্থাৎ, অন্য কাউকে ন্যায় থেকে বঞ্চিত করে আরেকজনকে তা দেওয়ার ব্যবস্থা এখানে করা হয়নি। তাই এই আইন উদ্বাস্তুদের প্রতি "ন্যায়" বিধান করে সংবিধানকেই আরো শক্তিশালী করেছে।
অনেকে আবার বলছেন, এই আইনের দ্বারা পাকিস্তানের মুসলমানদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়নি, তাই এটা অন্যায় হয়েছে। এখানে কথা হল, পাকিস্তানের মুসলমানরা কি ভারতের নাগরিকত্বের দাবি করছে ? উত্তর হল, করছে না, তাহলে ভারতে বাস করে তাদের উপর কেন এত দরদ ঝরে পড়ছে ? উদ্বাস্তুরা দীর্ঘ কাল ধরে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আন্দোলন করে আসছে। তাই তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বলা যায়, ইমামদের ভাতা দেওয়া হয়েছে, পুরোহিতদের ভাতা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সমতা বা ধর্মনিরপেক্ষতা কোনটাই লঙ্ঘিত হয়নি, এর বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন বা বিক্ষোভও হয়নি। এদের ভাতার দরকার ছিল (?) তাই তা দেওয়া হয়েছে। উদ্বাস্তুদের দরকার ছিল নাগরিকত্বের, তাদের সেটা দেওয়ার জন্য আইন পাশ করা হল, আর অমনি সংবিধান লঙ্ঘিত হয়ে গেল ?
কিছু রাজনৈতিক দল এই সুযোগে বেশ মওকা পেয়ে গেছে, তারা বুঝতে পারছে, এই উজান স্রোতে কোন দিকে জাল টানলে জালে কোন ধরনের মাছ বেশি ঘরাবে। এ হল ঘোলা জলে মাছ ধরার রাজনীতি, আর এর জন্য এরা জল আরো ঘোলা বানানোর চেষ্টা করছে।
নতুন ভারতের পথে
আশা করি, দেশের সচেতন জনগণ সবই বুঝতে পারছেন, এবং তারা এই সস্তা রাজনীতিকে বর্জনই করবেন, এবং দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনে সঠিক ভূমিকা গ্রহণ করবেন।
তবে এটা পরিস্কার যে, কিছু বিক্ষিপ্ত চিন্তার মানুষ ব্যতীত প্রায় সমগ্র দেশবাসীই এই আইনকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তবে, কেউ কেউ আবেদন জানানোর ব্যাপারটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই বলে যে, ইতিমধ্যেই যারা ভোটার, ভোট দিচ্ছেন, তাদেরকে কেন আবেদন জানাতে হবে ? এতে প্রচুর মানুষকে নিয়ে বিপুলভাবে টানাহেঁচড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে, সরকারেরও বিপুল অর্থ ও শ্রম নষ্ট হবে অযথা, এবং সেইসঙ্গে প্রচুর ভুলভ্রান্তি হওয়ার সম্ভাবনা তো রয়েছেই। তার থেকে যেসব উদ্বাস্তুদের ভোটার তালিকায় নাম নেই কেবলমাত্র তাদের জন্য আবেদনের ব্যবস্থা করা হোক - এটাই এদের দাবি। এতে ঝামেলা অনেক কমবে বলে তাদের বিশ্বাস।
যাই হোক, আশা করি, সরকার উৎকৃষ্টতম পথই বেছে নেবে, এবং সকল উদ্বাস্তুই সহজে নাগরিকত্ব পাবে, এবং তারা এদেশের নাগরিক হয়ে ভারতমাতার সেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারবে। এবং এর ফলে আমরা দেখতে পাবো এক নতুন ভারতকে।
জয় হিন্দ।।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন