একটি ছবির মতো সুন্দর গ্রাম,তার মনোরম সবুজ প্রকৃতি ও পরিবেশ সবাইকে মুগ্ধ করে,অপার শান্তি ও পুলকে ভরিয়ে দেয় মনকে।শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্যও এরকম পরিবেশ আদর্শ।এরকম গ্রামে বাস করাও একটা আলাদা সুখ।
তারপর ভাবুন, যদি থাকে একটি ছোট্ট নদী,গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত,নদীর পাড় বরাবর সারি সারি তালগাছ, তার ওপারে সবুজ ধানক্ষেত,উপুড় করা উন্মুক্ত আকাশ, আকাশের তলে দিগন্তবিস্তৃত মাঠ,মাঠ ছাড়িয়ে ওপারের গ্রামের মাথার উপর দিগন্তরেখা,ভাবুন একবার।কি অপার নৈসর্গিক সৌন্দর্য ! আহা ! ভাবতেই ভালো লাগে।
তারপর ভাবুন, যদি থাকে একটি ছোট্ট নদী,গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত,নদীর পাড় বরাবর সারি সারি তালগাছ, তার ওপারে সবুজ ধানক্ষেত,উপুড় করা উন্মুক্ত আকাশ, আকাশের তলে দিগন্তবিস্তৃত মাঠ,মাঠ ছাড়িয়ে ওপারের গ্রামের মাথার উপর দিগন্তরেখা,ভাবুন একবার।কি অপার নৈসর্গিক সৌন্দর্য ! আহা ! ভাবতেই ভালো লাগে।
গ্রামের দুরবস্থা
কিন্তু এর সঙ্গে ভাবুন তো,যদি ভালো রাস্তাঘাট না থাকে, শহরের সঙ্গে যোগাযোগ ভালো না থাকে, হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসার ভালো কোন উপায় না থাকে,আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জল না থাকে,বিদ্যুৎ না থাকে, ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকে, তাহলে এই আধুনিক যুগে কে থাকতে চায় সেইসব গ্রামে ? এইজন্য ডাক্তাররা যেতে চান না গ্রামে বা গ্রামে কেউ একটু ভালো চাকরিবাকরি পেলেই শহরের দিকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে।উদ্দেশ্য ভালো চিকিৎসার সুযোগ, সেইসঙ্গে সন্তানের শিক্ষাদীক্ষার সুবিধা।গ্রামে এগুলোর অভাব প্রকট,তাই শহরে অভিপ্রয়াণ।ফলে শহরের জনসংখ্যা বেড়ে শহর ক্রমশ ঘিঞ্জি হয়ে উঠছে।
গ্রামের মানুষকে যদি শহরের যাবতীয় সুযোগসুবিধা দিয়ে গ্রামে রাখা যেত তাহলে শহরের উপর চাপ যেমন কমতো,তেমনি গ্রামেরও উন্নতি ত্বরান্বিত হত।আর এর ফলে দেশের উন্নতিও আরো বেগবান হত।
আধুনিক সর্বসুবিধাযুক্ত গ্রাম তৈরি করতে হলে একটি গ্রামের পরিকাঠামো কেমন হতে হবে সেটা দেখা যাক-
১. ভালো রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জল নিশ্চিত করতে হবে।
২. প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েত ভবনকে কেন্দ্র করে তার আশেপাশে গড়ে তুলতে হবে একটি গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র যা চব্বিশ ঘন্টা খোলা থাকবে, চব্বিশ ঘন্টাই ডাক্তার, অক্সিজেন ও রক্তের সরবরাহ থাকবে।
৩. একটি ব্যাঙ্ক থাকতে হবে,এটিএম সহ।
৪. বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অফিস থাকবে, বিশেষ করে কৃষি ও ক্ষুদ্রশিল্প সহায়তা কেন্দ্র থাকবে।
৫. আর এগুলোতে কর্মরত কর্মীদের থাকা বা বাস করার জন্য অবশ্যই থাকতে হবে ভালো সরকারি আবাসন,
৬.সেইসঙ্গে সন্তানের সুশিক্ষার সহজলভ্যতার জন্য কাছেপিঠে অবশ্যই থাকতে হবে বিভিন্ন স্তরের ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
৭. আর দরকারি যাবতীয় প্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনাকাটার জন্য থাকতে হবে একটা পাঁচমিশেলি ভালো বাজার।
৮. সেইসঙ্গে একটি ভালো খেলার মাঠ, খেলার মাঠ হল ফুসফুসের মতো,যা সুস্থভাবে বাঁচার অক্সিজেন যোগায়।
৯. মাঠের পাশে থাকতে হবে একটি মঞ্চ,বিভিন্ন রকমের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উপযোগী, যা গ্রামের মানুষের মিলনমেলার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
১০. সেইসঙ্গে থাকতে হবে একটি শিশুউদ্যান, যেখানে শিশুরা মনের আনন্দে খেলতে পারবে,অন্যদের সঙ্গে মিলিত হতে পারবে,ভাব বিনিময় করতে পারবে,শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য যা অতি প্রয়োজনীয়।
এগুলো একটি সুন্দর, সুস্থ প্রাণচঞ্চল গ্রামের জন্য অতি আবশ্যক।
গ্রামকে বঞ্চিত করে দেশ কখনো এগোতে পারে না।
পঞ্চায়েতের ভূমিকা
পঞ্চায়েতে যে পরিমাণ টাকা বরাদ্দ হয় তাতে ভালোভাবেই গ্রামের উন্নয়নকে এই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার অভাব ও দুর্নীতির কারণে গ্রামের সেই উন্নতি আর হয়ে ওঠে না। জনতা এ বিষয়ে সচেতন ও তৎপর না হলে সেটা সম্ভব নয়। আসুন,এই চেতনাকেই আমরা প্রসারিত করি ও সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিই। গ্রামের মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনের জন্য গ্রামকে স্বনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা জরুরী। গ্রামের মানুষের স্মার্ট জীবনের জন্য দরকার স্মার্ট গ্রাম।গ্রামের উন্নতিতেই দেশের উন্নতি
দেশের বেশিরভাগ মানুষই গ্রামে বাস করে। তাই দেশের উন্নতি করতে হলে, মানুষের উন্নতি করতে হলে গ্রামের উন্নতি করতে হবে। গ্রামের উন্নয়নই রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে আগে জরুরী।
গ্রামের রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলে গ্রামের মানুষের পক্ষে শহরে যাতায়াত সহজ হয়,ফলে গ্রামে থেকে সে শহরের সুযোগসুবিধাগুলো পেতে পারে। গ্রামের ভালো রাস্তাঘাট গ্রামের কৃষক তার ক্ষেতে উৎপন্ন ফসল সহজে, কম সময়ে ও কম খরচে শহরে ননিয়ে যেতে পারে।ফলে সে তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পেতে পারে। যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ বা দুর্গম হলে কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মূল্য যেমন পায় না,তেমনি অনেক ফসল অবিক্রীত থেকে নষ্ট হয়।
তেমনি ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা গ্রামের মানুষকে রোগ বা শারীরিক অসুস্থতায় দ্রুত শহরের হাসপাতালে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে। কেবলমাত্র অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই গ্রামের অনেক মানুষ সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারার কারণে মারা যায়।
ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা গ্রামের পড়ুয়াদের সহজে শহরের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে সাহায্য করে।এতে গ্রামের শিক্ষার হারও বাড়ে,বিশেষ করে মেয়েদের পক্ষে অনেক সুবিধা হয়। শুধুমাত্র শহরে পৌঁছনোর ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবেই অনেকে পড়ার মাঝে ইতি টেনে দেয়।
অতএব, ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থার সাহায্যে গ্রাম থেকে শহরে গিয়ে শহরের সুবিধাগুলো পাওয়ার পাশাপাশি গ্রামের মধ্যেও শহরের সুবিধাগুলো নিয়ে আসা জরুরী, যা উপরে আলোচনা করেছি। এই দুয়ের মেলবন্ধনেই গ্রাম হয়ে উঠুক শহরের মতো সুবিধাযুক্ত, অনুরূপে শহরও হয়ে উঠুক গ্রামের মতো নির্মল ও সুন্দর। এর ফলেই দেশের সার্বিক বিকাশ ও উন্নতি সম্ভব।
গ্রামের উন্নতিতেই দেশের উন্নতি।
তাই আসুন,এবার গ্রামের জন্য একটু ভাবি।
আসুন,গ্রামের উন্নয়নের জন্য সোচ্চার হই।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন