দায়িত্ব রয়েছে শিক্ষকদেরও


বরাহনগরের প্রাইমারি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের খুদে পড়ুয়াদের শাসন করা,এবং তা নিয়ে মিডিয়ায় শোরগোল,এধরনের পরিস্থিতি শিক্ষক সমাজের কাছে যথেষ্ট অস্বস্তিকর।মিডিয়া এখন সর্বব‍্যাপী এবং সর্বগ্রাসী।তারা সবসময় খবর তৈরির জন‍্য উন্মুখ।মিডিয়া সেটা করবেই, কারণ সেটাই মিডিয়ার কাজ।
কিন্তু এর মধ‍্য থেকে শিক্ষকদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।অনেকদিন ধরেই এরকম প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।দোষটা কার ? মিডিয়ার, না শিক্ষকদের ? মিডিয়া যেমন অনেক কিছুই দেখায়,তেমনি অনেক কিছুই দেখায় না।যার যেমন রঙ বা চরিত্র সে সেই ভাবে খবর পরিবেশন করে।এটা আমরা কমবেশি সবাই জানি বা বুঝি।যাইহোক, সে বিচারে আমরা যাবো না।মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমাদের নেই, বা ন‍্যায়ত,মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে যাওয়াও উচিত নয়।
আমরা কেবল শিক্ষকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শিক্ষকের বিচার করতে পারি।আইনমতে শিক্ষার্থীদের শাসন করা বৈধ নয়,শুধু তাই নয়,এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে।২০০৯ সালে আইনটি তৈরি হয়েছিল।আইনটি এমনি এমনি তৈরি হয়নি।আইনটি তৈরি হওয়ার পিছনে অনেক গল্প ছিল।অনেক শিক্ষকই খুদে শিক্ষার্থীদের উপর এমন অনেক শাসন করেছেন, যা বর্বরোচিত।শিক্ষার্থীরা রক্তাক্ত হয়েছে,পঙ্গু হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, এমনকি মৃত্যুর মতো দুঃখজনক ঘটনাও ঘটেছে।এসব শিক্ষকের কাজ,বা কর্তব‍্য,বা দায়িত্ব একথা কেউ বলবে না।তা সত্ত্বেও এমন সব অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটেছে।আর তাই এমন আইন পাশ হয়েছে।
বরাহনগরের প্রাইমারি স্কুলের অভিভাবকেরা অবশ্য বলছেন, শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের শাসন করবে,এটাই তারা চান।কারণ,শাসন না করলে তাদের সন্তানেরা মানুষ হবে না।তাই তারা চান,শিক্ষকেরা তাদের সন্তানদের শাসন করুক।
বাস্তবেই তাই,শিক্ষার্থীদের মানুষ করতে গেলে তাদের একটু আধটু শাসন করারও দরকার আছে।তবে সেই শাসন হতে হবে স্নেহভরে, নিশ্চয়ই তা পুলিশি কায়দায় নয়।শারীরিক আঘাতের মাধ্যমে শাসন মোটেই কাঙ্ক্ষিত নয়,অন্ততপক্ষে পড়াশুনা না করা বা না পারার জন‍্য তো মোটেই নয়।এমনকি টুকটাক দুষ্টুমি করার জন‍্যও নয়।কারণ,দুষ্টুমি করা এদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে বলে আমি মনে করি।শিক্ষার্থীরা অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত কোন কিছু করলে গার্জিয়ান কল করার অভ‍্যাস গড়ে তোলা উচিত।এ পদ্ধতিটাই সব দিক থেকে নিরাপদ।শিক্ষকদের দায়িত্ব কিছু রয়েছে তো বটেই, তবে অতিরিক্ত দায়িত্ব অভিভাবকদের উপর চাপিয়ে দেওয়াই নিরাপদ।
অভিযোগ, বরাহনগরের প্রাইমারি স্কুলের ঐ প্রধান শিক্ষক খুদে শিক্ষার্থীদের আঙুলের ভিতর পেন্সিল ঢুকিয়ে চাপ দিয়ে ওদের কষ্ট দিয়েছেন, ভিডিওটা আমি দেখিনি।জানিনা ঘটনাটা আসলে কি ঘটেছে।তবে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে কখনোই শাসন করা উচিত নয় যা নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে।আবার এটাও ঠিক, অনেকেই শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করার জন‍্য যতটা না শাসন করেন,তার থেকেও শাসন করার অভিনয় করেন বেশি।বাইরে থেকে দেখলে সেটা যতটা মনে হয় বাস্তবে কিন্তু আদৌ তা নয়।জানিনা এক্ষেত্রে কি হয়েছে।
তাই সবদিক বিবেচনা করে,এটাই মনে হয়,শিক্ষকদের আরো সতর্ক হওয়া যেমন উচিত, তেমনি অভিভাবকদেরও উচিত তাদের সন্তানদের শাসন করার অভ‍্যাস গড়ে তোলা।যে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের শাসন করেন না,শিক্ষকেরা তাদেরকে শাসন করে কোন লাভ হবে না,উল্টে হিতে বিপরীত হতে পারে।আর অভিভাবকদেরও তাদের সন্তানদের মানুষ করার স্বার্থে শিক্ষকদের উপর আস্থা রাখা উচিত।এই দুয়ের সুষ্ঠু মেলবন্ধনেই কেবল একটা সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে, বিদ‍্যালয়গুলি হয়ে উঠতে পারে সমাজের সবচেয়ে পবিত্রতম ও সুন্দর স্থান।

কোন মন্তব্য নেই:

Featured post

শীতের স্বাস্থ্য-সমস্যা ও তার প্রতিকার How to heal the health problems of Winter season

শীতে পরুন গরম পোশাক শীত একটি সুন্দর মনোরম ঋতু।কিন্তু শীতকাল অনেকের কাছেই খুব সমস্যার, বিশেষ করে যাদের ঠান্ডার ধাত বা অ্যাজমা ইত‍্যাদি...