ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস ঈজিপ্টাই
![]() |
| Tiger mosquito এডিস ঈজিপ্টাই ডেঙ্গুর মশা |
গ্রীষ্মপ্রধান দেশে বর্ষাকালের সময়টা ডেঙ্গু জ্বরের উৎপাত বাড়ে। এডিস ঈজিপ্টাই নামক মশা এই ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করে। এই মশা দিনের বেলা কামড়ায়।স্থির বদ্ধ জলে এই মশা ডিম পাড়ে ও বংশবৃদ্ধি করে।
![]() |
| Dengue mosquito |
ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের নিম্নলিখিত উপায়গুলি অবলম্বন করতে হবে-
১. যে সকল পাত্র জল ধরে রাখতে পারে সেগুলো উপুড় করে রাখতে হবে,নারকেলের খোলা, ভাঙা পাত্র এগুলোও। আর যদি উপুড় করে রাখা সম্ভব না হয়,যেমন,বাথরুমের পাত্র বা জলাধার,তাহলে সেগুলো হয় খালি করে রাখুন,নইলে ভালো করে ঢেকে রাখুন।বদ্ধ জল মাঝে মাঝে ভালো করে নাড়িয়ে দিন, বা নতুন জল সবেগে ঢেলে দিন, তাহলে মশার লার্ভা নষ্ট হয়ে যাবে।
২. ফুল গাছের টবগুলোর দিকে নজর রাখুন।জল জমলে ফেলে দিন,যাতে মশা বংশবৃদ্ধি করার জায়গা না পায়।
৩.বাড়ির চারিদিক ঝোপঝাঁড় ও আবর্জনা মুক্ত রাখুন।বাড়ির চারিপাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।বাড়ির চারিপাশে মশা তাড়ানো বস্তু, যেমন,ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে রাখুন।
৪. বাড়িতে ধূপধুনোর ধোঁয়া দিন, কিংবা কয়েল বা অল আউটের মতো মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করুন।ঘরের জানালায় সরু নেট লাগান,দরজাতেও সরু নেটের পর্দা ব্যবহার করতে পারেন।বাজারে খোঁজ করলে আরো অনেক রকম উপায়ের সন্ধান পাবেন।
৫. ঘুমনোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন।বিশেষ করে দিনের বেলা বাচ্চারা যখন ঘুমোবে বা শুয়ে থাকবে তখন অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে দিন।
৬. পোশাক পরে শরীর ঢেকে রাখার চেষ্টা করুন,বিশেষ করে বাচ্চাদের কোন আরামদায়ক ফুলহাতা জামা ও ফুলপ্যান্ট পরিয়ে রাখুন।
৭. মশা দেখলেই দুই হাত দিয়ে থাপ্পড় মেরে মশা মারুন, বাচ্চাদেরও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করুন।হয়তো যে মশাটা আপনি মারলেন সেই মশাটার কামড়েই আপনার ডেঙ্গু হতে পারতো।
৮. অতিরিক্ত সচেতন হোন।শরীরের কোথাও সামান্যতম চুলকে উঠলেও বা বিড়বিড় করলেও খেয়াল করুন শরীরে মশা বসেছে কি না।
৯. দরজা, জানালার পর্দায় বা মশারিতে ছিদ্র থাকলে সেগুলো সারাই করুন।
১০. পড়ন্ত বিকেলে সন্ধ্যার আগে আগে খোলা জানালাগুলো বন্ধ করে দিন, কারণ,এই সময়ে বাইরে থেকে ঘরের মধ্যে মশা ঢোকে।
১১. যদি বাড়িতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কোন রোগী থাকে তাহলে সেই রোগীকে বা বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের কাউকেই যাতে কোন মশা কামড়াতে না পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
১২. মশা প্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলুন,বিশেষ করে আপনার বাচ্চাকে মনের ভুলেও মশাপ্রবণ অঞ্চলে নিয়ে যাবেন না।
১৩. আপনার নিজের এলাকাই যদি মশা প্রবণ হয়,তাহলে আপনি আরো বেশি সচেতন হোন,অন্যদের সচেতন করুন, নাগরিক সচেতনতা গড়ে তুলুন।মশার আস্তানা গুলোকে নির্মূল করার চেষ্টা করুন।এ ব্যাপারে সমবেত নাগরিক উদ্যোগে প্রশাসনের সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করুন।
১৪. আপনি যদি কুলার ব্যবহার করেন তাহলে নিয়মিত কুলারের ট্রে বের করে ট্রের জল পরিস্কার করুন,এমনকি যখন আপনি সেটা ব্যবহার করছেন না তখনও।
১৫. কাগজের টুকরো ফেলা বালতি বা ডাস্টবিন ঢেকে রাখুন।
১৬. বাড়ির চারিপাশে, বিশেষ করে জানালার পাশে তুলসী গাছ লাগান।তুলসী গাছ মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করে।
১৭. নিমতেল নারকেল তেলের সাথে আধাআধিভাবে মিশিয়ে গায়ে মাখুন,বিশেষ করে শরীরের খোলা অংশে।আট ঘন্টার মধ্যে মশা আপনার গায়ের কাছে ঘেঁষবে না।
১৮. লেমন অয়েল ও ইউক্যালিপটাস অয়েল সমান অনুপাতে মিশিয়ে গায়ে মাখলেও মশা ধারেকাছে আসবে না।
১৯. ঘরের মধ্যে জানালা ও দরজার কাছে কর্পূর রেখে দিন ১৫-২০ মিনিট।তারপর ম্যাজিক দেখুন।মশা সব হাওয়া।
২০. রসুন জলে ফেলে গরম করুন।সেই জল ঘরে ছড়িয়ে দিন, ঘরে মশা আসবে না।সেই জল ঠান্ডা হলে নিজের গায়ে একটু ছিটিয়ে নিন।মশা আপনাকে কামড়াবে না।
একইভাবে চা গাছের তেল,পুদিনা তেল বা রস,ল্যাভেন্ডার তেল,সিট্রোনেলা মশা তাড়াতে ওস্তাদ।
২১. বাড়িতে তুলসি গাছ,লেবু গাছ, নিম গাছ,পুদিনা গাছ, মেরিগোল্ড লাগান।মশার উৎপাত থেকে আপনার বাড়ি সুরক্ষিত থাকবে।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণগুলি হল-
হঠাৎ করে জ্বর শুরু, সঙ্গে মাথাব্যথা।
সেইসঙ্গে চামড়ায় র্যাশ বা ফুসকুড়ি বেরোয়।
পেশী এবং জয়েন্টে ব্যাথা।
সেইসঙ্গে গা-গোলানো বা বমি বমি ভাব বা বমিও হতে পারে।
অবস্থা চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলে প্রচুর রক্তপাত শুরু হয় ও রোগীর মৃত্যু ঘটে।
![]() |
| Dengue symptoms ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ |
,,,,,,,,,,,,
করণীয়-
জ্বর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য খেয়ে যেতে হবে প্যারাসিটামল। কোন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না। প্রচুর পরিমাণে জল ও তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে, কারণ, এর ফলে প্রচ্ছাব বেশি হবে। ফলে প্রচ্ছাবের সঙ্গে ডেঙ্গুর জীবাণু দেহের বাইরে বেরিয়ে যাবে। রোগীর কপালে জলপট্টি ও মাথায় লাগাতার জল দিয়ে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জ্বর কোনমতেই বাড়তে দেওয়া যাবে না। এটা হল বেসিক সুশ্রূষা।
পড়ুন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আরও পোস্ট>>
পড়ুন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আরও পোস্ট>>
সবগুলো লক্ষণ মিলিয়ে দেখার অপেক্ষা না করে জ্বর হলেই অবহেলা না করে ভালো ডাক্তার দেখানো উচিত,কিংবা হাসপাতালে যাওয়া উচিত। ডাক্তারের পরামর্শমত রক্ত পরীক্ষা করা উচিত ও রোগ ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া উচিত।প্রথম থেকেই সঠিকভাবে চিকিৎসা শুরু হলে ডেঙ্গুতে কোন রোগীই মারা যায় না।রোগীকে বেশি বেশি করে জল,দুধ বা জলীয় খাবার খাওয়ান।সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলে নিজের গরজে রোগী সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে কিনা নজর রাখুন,এবং কোনরকম গাফিলতি হচ্ছে মনে হলে কোন ভয় বা সংকোচ না করে নার্স বা ডাক্তার বাবুকে সঠিক চিকিৎসা করতে বলুন,প্রয়োজনে জোর দিয়ে বলুন।তবে ভদ্রতা বজায় রেখে।
মনে রাখবেন, ঠিকঠাক চিকিৎসা না হলে রোগী মারা যেতে পারে।তাই যেকোন মূল্যে সঠিক চিকিৎসা আদায় করে নিন।
![]() |
| Dengue virus ডেঙ্গুর ভাইরাস |
ভালো লাগলে শেয়ার করুন
নাটকগুলি পড়তে এখানে ক্লিক করুন
নাটকগুলি পড়তে এখানে ক্লিক করুন




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন