সোমবার, ২০ মে, ২০১৯

গ‍্যাস্ট্রিকের সমস্যা সারিয়ে তুলুন তাড়াতাড়ি How to relieve Gastric problem soon

Stomach and small intestine
গ‍্যাস্ট্রিকের সমস্যা

গ‍্যাস্ট্রিকের সমস্যা আসলে কি 

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বা গ্যাসের সমস্যা বর্তমান সময়ে মানুষের একটা বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। প্রচুর মানুষ গ্যাস্টিকের সমস্যায় ভুগছেন এবং কষ্ট পাচ্ছেন, শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন। এ সমস্যা একবার বেধে গেলে সারা জীবন ধরে ভোগাতে পারে এবং শরীরের অবস্থা কাহিল করে দিতে পারে, জীবনের আনন্দ নষ্ট করে দিতে পারে। সেই জন্য গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে তাড়াতাড়ি সারিয়ে তোলা উচিত।
একদম অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে আরো নানা রকম শারীরিক জটিল সমস্যা তৈরি হতে পারে, জীবন দুর্বিষহ হয়ে যেতে পারে। তাই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করুন। সেই বিষয়ে আজকের লেখা- গ্যাস্ট্রিক বা গ্যাসের সমস্যা থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যাবে। মূলত বলে রাখি গ্যাস সমস্যা সাধারণত অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া বা বেঠিক খাবার দাবার খাওয়ার জন্য হয়ে থাকে। আপনি নিয়মিত খেলেন না বা দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলেন, তারপর তেল-মসলাযুক্ত খাবার খেলেন যে খাবার গুলোর কোন পুষ্টি মূল্য নেই, ভুলভাল খাবার, মসলাদার খাবার, তেলে ভাজা, ভাজা পোড়া, বাসি, অনেক দিনের পুরনো তেলে ভাজা, একাধিকবার ব্যবহার করা তেলে রান্না করা খাবার ইত্যাদি অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তৈরি হতে পারে বা পেটের অন্যান্য সমস্যা তৈরি হতে পারে। মদ পান করলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তবে যেটা মনে রাখা দরকার সেটা হচ্ছে, সাধারণত যারা অনেকক্ষণ ধরে না খেয়ে থাকেন, বিভিন্ন কাজের জন্য খাওয়ার সময় পান না, বিশেষ করে বাড়ির মেয়েরা কাজ করার জন্য তারা নিজেরা খাওয়ার সময় পান না, অনেক রাত্রে অনেক দেরি করে খাবার খান, সময়ের খাবার সময় খান না, তাদের কিন্তু গ্যাস্ট্রিক বা গ্যাসের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। সেইজন্য তাদের যেটা করতে হবে সেটা হল সবসময় হাতের কাছে কিছু খাবার রাখতে হবে,যেমন, মুড়ি খাওয়া নিরাপদ। ভাত খেতে যদি একটু দেরি হল কিছু মুড়ি খেয়ে নিলেন, পেট যাতে খালি না থাকে। তবে চেষ্টা করতে হবে সঠিক সময়ে খাওয়ার। যদি দেখা যায়, সময়মতো খাওয়া যাচ্ছে না তবে সেই ধরনের বিকল্প কিছু খেয়ে নিতে হবে। এটা একটা বড় সমাধান। কাজকর্ম করেন না, শুধু ঘরের ভেতর এর কাজ করেন, হাঁটাচলা করেন না, বসে থাকেন বা বসে থাকার কাজ করেন, যেমন সেলাই মেশিনের কাজ, এসব ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই জন্য আপনাকে সময় পেলে একটু হাঁটাচলা করতে হবে, হালকা হালকা শরীর চর্চা করলে সব থেকে ভালো হয়। খালি হাতে ব্যায়াম করা যেতে পারে বা ভুজঙ্গাসন করা যেতে পারে, পশ্চিমোত্তানাসন যদি পারেন চেষ্টা করতে পারেন। এমন কিছু কিছু ব‍্যায়াম যেগুলো করলে পেটে চাপ পড়ে, কিন্তু হালকার উপর চেষ্টা করতে হবে। সব সময় খুব কঠিন জটিল ব্যায়াম করা যাবে না। আপনি আপনার শরীর ঠিক রাখার জন্য ব্যায়াম করছেন, আপনি তো আর ব‍্যায়ামবিদ নন, সেজন্যই হালকার উপর কিছু ব্যায়াম করার চেষ্টা করতে হবে। আর হাঁটাচলাটা করার চেষ্টা করতে হবে। আর একটা বিষয় হচ্ছে, বিশুদ্ধ পরিষ্কার জল পান করতে হবে। দূষিত জল, আয়রন বেশি এধরনের জল আপনাকে এড়িয়ে চলতে হবে। আপনাকে দরকারে ফিল্টার করে জল খেতে হবে। বাড়িতে ফিল্টার কিনতে হবে, একটু দম হলেও। আপনার পেটের রোগ সারাতে হয়তো হাজার হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে, সেখানে দুই হাজার টাকা দিয়ে একটা ফিল্টার কিনে নিলেন। বিশুদ্ধ জল খাওয়াটা কিন্তু পেটের রোগের ব্যাপারে এবং গ্যাস্ট্রিক বা গ্যাস এর ব্যাপারে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এমন কিছু খাবার খেতে হবে যেগুলো আপনার গ্যাসের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।  চেষ্টা করবেন বেশি প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি খাবার খাওয়ার। প্রসেসড ফুড বা প্রসেসিং করে তৈরি করা খাবার এড়িয়ে চলুন। আপনাকে নিজেকেও পরখ করে দেখতে হবে কোন খাবারগুলো খেলে আপনার সমস্যাটা বাড়ছে। সেগুলো খাওয়া বন্ধ করতে হবে। আর কোন খাবারগুলো খেলে আপনার পেট ভালো থাকছে, ঠান্ডা থাকছে, যেমন টক দই। যদি দেখেন টক দই খেয়ে আপনার পেট ঠান্ডা হচ্ছে, গ্যাসের সমস্যা নিরসন হচ্ছে, তাহলে টক দই খান। নিয়মিত টক দই পেটের জন্য খুবই ভালো। নিয়মিত টক দই খাওয়া বা তেঁতুলের টক খাওয়া বা কাঁচা আমের টক খুবই ভালো।

পড়ুন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আরও পোস্ট>>

গুরুতর হলে ডাক্তার দেখান


আপনার গ্যাস বা গ্যাস্টিকের সমস্যা যদি খুব সিরিয়াস হয়, পেটে যদি ব্যথা বা জ্বালাযন্ত্রণা হয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তার দেখানো উচিত। যদি পায়খানায় সমস্যা হয় বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত পড়ে বা পায়খানা সন্দেহজনক হয় তাহলে অবশ্যই আপনার ডাক্তার দেখানো উচিত। এবং ডাক্তার দেখিয়ে সমস্যাটা কি সেটা ভালোভাবে ডায়াগনোসিস করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা উচিত। কারণ গ্যাসের সমস্যা অনেক কারণে হতে পারে। আপনার হয়তো সিরিয়াস কোন সমস্যা রয়েছে, তার জন্যও হতে পারে গ্যাসের সমস্যা। সেইজন্য ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা নিরিক্ষা করিয়ে শরীরটাকে চেকআপ করিয়ে ভালো করে দেখাটা অবশ্যই দরকার। আর গ্যাসের সমস্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে, পরীক্ষা করতে হবে। তারপর যদি ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা করে দেখা যায়, না তেমন কোন সমস্যা নেই, তখন আপনি কিছু নিয়ম নীতি পালন করে চলবেন, খাবার-দাবারের ব্যাপারে নিয়ম মেনে চলবেন, তাতে আপনার সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু আপনার যদি গুরুতর সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মত আপনাকে ওষুধ খেতে হবে, বা সেইমত চিকিৎসা করাতে হবে। আর যদি গুরুতর কোন সমস্যা না থাকে, শুধু আপনার জীবনযাপনের সমস্যার কারণে বা খাবার-দাবারের অনিয়মের কারণে আপনার গ্যাসের সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে সেই অনিয়মটাকে দূর করতে হবে। সঠিক খাবার দাবার গ্রহণ করতে হবে। সঠিক সময় খাবার দাবার গ্রহণ করতে হবে, অর্থাৎ আপনার জীবন যাপন প্রণালীটাকে সঠিক জায়গায় আনতে হবে। এ বিষয়ে একটা কথা অবশ্যই মনে রাখবেন যে, প্রকৃতিপ্রদত্ত খাবার বা প্রাকৃতিক খাবার বেশি খাওয়ার চেষ্টা করবেন। আপনি যত কৃত্রিম খাবার খাবেন, যত কৃত্রিমভাবে তৈরি করা খাবার খাবেন, যেমন, বিস্কুট, কেক, নানা রকম ভাজাভুজি, হাবিজাবি, ঠান্ডা পানীয়, কার্বনেটেড পানীয় ইত্যাদি- এগুলো সমস্যা তৈরি করবে। দুধ খেলে আপনার সমস্যাটা বাড়তে পারে, কিন্তু দুধের অন্যরকম উপজাতীয় খাদ্য,যেমন, টক দই খেলে আবার আপনার পেটের সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। এগুলো আপনি নিজেও যাচাই করে দেখবেন এবং সে অনুযায়ী চলাফেরা করবেন,তাতেই সুস্থ থাকবেন। এবার বলি, এগুলো মেনে চলার চেষ্টা করলে আশা করি সমস্যার সমাধান হবে। তবে সমস্যা গুরুতর হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে আপনাকে যেতেই হবে, ডাক্তারকে দেখাতে এবং ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী আপনাকে ওষুধপত্র খেতে হবে।

 ‎

গ‍্যাস্ট্রিকের কারণ-


        ১) সময়মতো খাবার না খাওয়া
        ‎২) অনেকক্ষণ ধরে না খেয়ে খালিপেটে থাকা
        ‎৩) খাবার খাওয়ার সময় ভালোমতো না চিবিয়ে খেয়ে নেওয়া
        ‎৪) সুরা পান করার অভ‍্যাস
        ‎৫) ভাজাপোড়া ও মশলাদার খাবার খাওয়া
        ‎৬) পাকস্থলী বা অন্ত্রে ব‍্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটলে
        ‎৭) হজমের সমস্যা থাকলে
        ‎৮) মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও টেনশন থাকলে
        ‎৯) ঠিকমতো না ঘুমালে বা ঘুম ভালো না হলে
        ‎১০) সবসময় শুয়েবসে থাকা বা পরিশ্রম বা শারীরিক নড়াচড়ার অভাব ঘটলে
        ‎

যে খাবারগুলো না খাওয়ার বিষয়ে সচেতন হবেন-


১) ভাজাভুজি, তেলেভাজা
২) মশলাদার খাবার
৩) চর্বিযুক্ত খাবার
৪) কার্বোনেটেড পানীয়
৫) দুধ বা দুধজাত খাবার যা খেলে সমস্যা হয়
৬) লেবুজাতীয় বা টকজাতীয় খাবার বা তার রস যা খেলে সমস্যা বাড়ে
৭) অ্যালকোহল, বিশেষ করে ভাতের বদলে অ্যালকোহল খাওয়া ঠিক নয়
৮) বাসি বা পচা খাবার খাবেন না

যেসব খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন-


        ১) ডাবের জল
        ‎২) তরমুজ
        ‎৩) শশা
        ‎৪) কালো আঙুর
        ‎৫) বেদানা
        ‎৬) টক দৈ
        ‎৭) ওটস্ (বাজারে প‍্যাকেটে পাওয়া যাবে। কিনে এনে রান্না করে খেতে হবে।)
        ‎৮) কুল
        ‎৯) জাম
        ‎১০)  থানকুনি শাক
        ‎১১) কাঁচকলা ( লুজ মোশনে উপকারী, সেইসঙ্গে থানকুনি খেতে হবে।)
        ‎

ঘরোয়া টোটকা --


                    ১)  হলুদ, কিংবা দুধ ও হলুদের মিশ্রণ,
                    ‎২) কাঁচা আলুর রস - খাওয়ার আগে খালি পেটে তিনবার খান।ভালো কাজ দেবে।
                    ‎৩) আদা খান‌।বাসি পেটে এক টুকরো আদা সামান্য নুন দিয়ে খান। রান্নায় আদা ব‍্যবহার করতে ভুলবেন না। বা আরো অন‍্য উপায়ে আদা সেবন করা যায়।
                    ‎৪) পেঁয়াজ- কাঁচা পেঁয়াজ ভাতের সঙ্গে খান।রান্নাতেও ব‍্যবহার করুন।
                    ‎৫) দারুচিনি
                    ‎৬) এলাচ
                    ‎গ‍্যাসের সমস‍্যায় ভীষণ উপকারী।
                    ‎

জীবনযাপন-


১) প্রতিদিন কিছুটা হাঁটাচলা করুন, পরিমিত পরিশ্রম করুন বা হালকা ব‍্যায়াম করুন।
যোগাসন ও প্রাণায়াম করতে পারলে আরো ভালো হয়, যেমন, ভুজঙ্গাসন, পশ্চিমোত্তানাসন, পবনমুক্তাসন, ধনুরাসন, অর্ধকুর্মাসন, মহামুদ্রা কপালভাতি প্রাণায়াম ইত্যাদি।
২) সকালে বাসিপেটে ছোট একটুকরো আদা খান।
৩) তিনবেলা সময়মতো বাড়িতে রান্নাকরা খাবার খান। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খান।গরম গরম খান। খাবার খাওয়ার সময় না পেলে কিছু মুড়ি খেয়ে নেন। খিদে পেটে থাকবেন না। খাবার পরপরই জল খাবেন না,আধা ঘন্টা পর জল খান।
৪) পরিমিত বিশুদ্ধ জল পান করুন।
৫) সেই খাবারগুলো প্রতিদিন খাওয়ার চেষ্টা করবেন যেগুলো খেলে পেট ভালো থাকে। আর সেই খাবারগুলো বর্জন করে চলুন যেগুলো খেলে সমস্যা তৈরি হয়।
৬) অধিক রাত করে খাবেন না। রাতের খাবার তাড়াতাড়ি খেয়ে নিন।
৭) রাত ১১ টার মধ্যে ঘুমোতে যান। অন্ততঃ ৭-৮ ঘন্টা আরামে ঘুমান।
Anatomy of human digestive system
মানব শরীরের পরিপাকতন্ত্র
গরমে থাকুন ফ্রেশ Stay fresh in Summer !

২টি মন্তব্য:

Dhaka Gastroliver Center বলেছেন...

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কি এবং কেন হয়?
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বলতে সাধারণত আমরা 'পেপটিক আলসার'কে বুঝে থাকি যেখানে আলসার বা ঘা হয় খাদ্য নালীর নিচের অংশে, পাকস্থলী কিংবা ডিওডেনামে, পাকস্থলীর বাইপাস সার্জারি করার পরে জেজুনামে অথবা বিরলতমভাবে মেকেল'স ডাইভার্টিকুলামের কাছাকাছি আইলিয়ামে।
আলসার বা ঘা একিউট বা তাৎক্ষণিক কিংবা ক্রনিক বা দীর্ঘ মেয়াদি হতে পারে।
আলসার ঘনীভূত হয়ে পাকস্থলী কিংবা ডিওডেনাম ফুটো হয়ে যেতে পারে।
গ্যাস্ট্রিক ও ডিওডেনাল আলসারঃ
গ্যাস্ট্রিক ও ডিওডেনাল আলসারকে একত্রে 'পেপটিক আলসার' বলা হয় এবং এই আলসারের হার উন্নয়নশীল দেশে দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।
পুরুষ ও মহিলা ভেদে ডিওডেনাল আলসারের অনুপাত ৫:১ থেকে ২:১; যেখানে গ্যাস্ট্রিক আলসারের অনুপাত ২:১।
ক্রনিক গ্যাস্ট্রিক আলসার - সাধারণত একটি হয় ; যার ৯০% শতাংশই পাকস্থলীর নিচের দিকের অ্যান্ট্রামে অথবা বডি ও অ্যান্ট্রামের সংযোগস্থলে হয়ে থাকে।
ক্রনিক ডিওডেনাল আলসার - সাধারণত ডিওডেনামের প্রথম ভাগে হয় এবং ৫০% শতাংশ ক্ষেত্রে ডিওডেনামের সামনের দেওয়ালে হয়ে থাকে।
গ্যাস্ট্রিক ও ডিওডেনাল আলসার একত্রে থাকতে পারে ১০% শতাংশ ক্ষেত্রে এবং একাধিক পেপটিক আলসার পাওয়া যায় ১০-১৫% শতাংশ রোগীর মাঝে।
যেভাবে আলসার তৈরি হয়ঃ
শুরুতে পাকস্থলী হতে অ্যাসিডের অতি নিঃসরণ হয় নিম্নোক্ত ধাপে -
(১) পাকস্থলীর নিচের অংশের অ্যান্ট্রামের D-cell এর Somatostatin কমে যায়,
(২) পাকস্থলীর বডি'র G-cell হতে Gastrin নিঃসরণ বেড়ে যায়,
(৩) পাকস্থলীর দেওয়ালের Parietal cell হতে HCL (হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড) এর নিঃসরণ বেড়ে যায়
(৪) ডিওডেনামে অ্যাসিডের বৃদ্ধি পাকস্থলীতে Parietal cell এর কার্যক্রম বাড়িয়ে দেয়, ফলশ্রুতিতে
(৫) পাকস্থলী ও ডিওডেনামে আরও বেশি প্রদাহ হয় এবং আলসার বা ঘা তৈরি হয়।
এইচ. পাইলোরি ব্যাকটেরিয়া, মানবদেহের IL-1, TNF-alpha, এবং পারিপার্শ্বিক নিয়ামক যেমন ধূমপান, NSAIDs জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ ইত্যাদি মিলে একদিকে পাকস্থলীর নিচের অংশে অ্যান্ট্রাল গ্যাস্ট্রাইটিস ও অন্যদিকে পুরো পাকস্থলীতে প্যানগ্যাস্ট্রাইটিস তৈরি করে যা হতে পরবর্তীতে গ্যাস্ট্রিক আলসার, ডিওডেনাল আলসার কিংবা গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার তৈরি করে।
পেপটিক আলসারের লক্ষ্মণ উপসর্গঃ
এটি একটি দীর্ঘ মেয়াদি সমস্যা যা নিজগুণে বাড়তে কমতে পারে এবং দশকব্যাপী স্থায়ী হতে পারে।
বারাবার পেটে ব্যথা বিশেষ করে
(১) পেটের উপরিভাগে মাঝ বরাবর ব্যথা,
(২) ব্যথার সাথে খাবারের সম্পর্ক (খাবার খাওয়ার পর ব্যথা কমে যাওয়া - ডিওডেনাল আলসার নির্দেশ করে আর খাবারের পরে ব্যথা বেড়ে যাওয়া - গ্যাস্ট্রিক আলসার নির্দেশ করে)
(৩) ব্যথার ধারাবাহিকতা - রাতের বেলায় ব্যথার তীব্রতায় ঘুম ভেঙে যাওয়া।
মাঝে মাঝে বমি হতে পারে ৪০% শতাংশ ক্ষেত্রে; প্রতি দিন বমি হলে ধরে নিতে হবে দীর্ঘ মেয়াদি আলসারের জন্য জটিলতা জনিত GOO (গ্যাস্ট্রিক আউটলেট অবস্ট্রাকশন) হয়ে গিয়েছে।
এক তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে তেমন কোন লক্ষ্মণ উপসর্গ থাকে না, বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি কিংবা যারা NSAIDs জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেন - যেখানে ব্যথা থাকে না কিংবা থাকলেও এত কম যে মনে হয় পেটের উপরিভাগে অস্বস্তিবোধ অনুভূত হয়।
মাঝে মাঝে কারও ক্ষেত্রে খাবারে অরুচি, বমি বমি ভাব কিংবা অল্প খেলেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি হতে পারে।
কিছু রোগীর ক্ষেত্রে আলসার একেবারেই নিশ্চুপ থাকতে পারে যা কি না প্রাথমিকভাবে দীর্ঘ মেয়াদি রক্ত ক্ষরণের ফলে অ্যানিমিয়া বা রক্ত স্বল্পতারূপে দেখা দিতে পারে ; হঠাৎ রক্ত বমি কিংবা তাৎক্ষণিক পাকস্থলী ফুটো হয়ে যাওয়া বা Perforation হতে পারে ; অন্য দিকে কারও কারও কোনরূপ আলসারের ব্যথা ছাড়াই পৌনপুনিক তাৎক্ষণিক রক্তপাত হতে পারে।
রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষাঃ
(১) এন্ডোসকপি -
এন্ডোসকপি হলো সবচেয়ে কার্যকরী পন্থা।
(২) বায়োপসি -
গ্যাস্ট্রিক আলসার মাঝে মাঝে ক্যান্সারে রূপান্তরিত হতে পারে আর তাই অবশ্যই সেই আলসার থেকে বায়োপসি নিতে হবে এবং আলসার শুকানো পর্যন্ত ফলোআপ করতে হবে।
(৩) এইচ. পাইলোরি ব্যাকটেরিয়া নির্ণয় -
নন-ইনভেসিভ
UBT (ইউরিয়া ব্রেথ টেস্ট)
Faecal antigen test
ইনভেসিভ (অ্যান্ট্রাল বায়োপসি)
হিস্টোলজি
RUT (Rapid Urease Test)
এর মাঝে UBT এবং Faecal Antigen Test ই সেরা কেননা এগুলো সুলভ, কার্যকর, মোক্ষম এবং অক্ষতিকর।

বিস্তারিত জানতে, Dr Sayedul Haque Jewel
সহকারী অধ্যাপক, লিভার বিভাগ,
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
চীফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা গ্যাস্ট্রো-লিভার সেন্টার।
০১৭০৩-৭২৮৬০১

ঢাকা গ্যাস্ট্রো-লিভার সেন্টার বলেছেন...

এন্ডোসকপি কি এবং কেন করা হয়?
এন্ডোসকপি একটি অত্যাধুনিক এবং সরাসরি দেখে রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা যা দ্বারা গলা, খাদ্যনালী, পাকস্থলী ও ডিওডেনামের দ্বিতীয় অংশ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং এখানে কোন ঘা বা আলসার, টিউমার বা ক্যান্সার, পলিপ, রক্তপাত, খাদ্যনালী পাকস্থলী বা ডিওডেনাম চেপে যাওয়া অথবা লিভার সিরোসিসের প্রতিক্রিয়ায় খাদ্যনালীর নীচের অংশের রক্তনালী ফুলে যেয়ে যে ভ্যারিক্স তৈরি করে তা দেখা যায়।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নিরূপণ ছাড়াও উল্লেখিত অংশসমূহের অনেক রোগের সফল ও কার্যকরী চিকিৎসা প্রদান সম্ভব।
এন্ডোসকপি কেন প্রয়োজন?
(১) খাদ্য গলাধঃকরণে অসুবিধা
(খাদ্যনালীর ক্যান্সার, পলিপ, স্ট্রিকচার, রিফ্লাক্স ইসোফ্যাজাইটিস, আলসার, অ্যাকালেশিয়া কার্ডিয়া, ডাইভার্টিকুলাম ইত্যাদি রোগ নিরূপণ)
(২) রক্তবমি হলে তার কারণ নির্ণয়সহ রক্তক্ষরণ বন্ধের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া
(যেমন EVL, EST, APC ইত্যাদি)
(৩) পেটের উপরিভাগে ব্যথা, পেট ফেঁপে থাকা, খালি পেটে কিংবা খাওয়ার পরে বমি হওয়া
( পাকস্থলী ও ডিওডেনামের আলসার, ক্যান্সার, পাকস্থলীর বহিঃমুখ সরু হয়ে যাওয়া বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণসহ আরও অনেক রোগের কারণ নির্ণয় করা)
(৪) খাদ্যনালী থেকে অপ্রয়োজনীয় বাহ্যিক পদার্থের অপসারণ
(যেমন মাছের কাঁটা, মাংসের হাড়, মাংসপিণ্ড, মার্বেল, পয়সা, ব্যাটারি, বোতাম, নাকফুল, কানের দুল, কৃত্রিম দাংতের অংশবিশেষ, তারকাটা, পিন, হিজাবের পিন ইত্যাদি)
(৫) H. Pylori ইনফেকশন সনাক্ত করা,
(৬) আলসার টিউমার বা ক্যান্সার থেকে বায়োপসি নেয়া,
(৭) পলিপ অপসারণ,
(৮) রক্তপাত বন্ধে অ্যাড্রেনালিন ইনজেকশন দেয়া,
(৯) সংকুচিত খাদ্যনালীর প্রসারণসহ আরও অনেক চিকিৎসা এন্ডোসকোপের মাধ্যমে করা সম্ভব।
ডাঃ এম সাঈদুল হক
সহকারী অধ্যাপক, লিভার বিভাগ,
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
চীফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা গ্যাস্ট্রো-লিভার সেন্টার

Featured post

শীতের স্বাস্থ্য-সমস্যা ও তার প্রতিকার How to heal the health problems of Winter season

শীতে পরুন গরম পোশাক শীত একটি সুন্দর মনোরম ঋতু।কিন্তু শীতকাল অনেকের কাছেই খুব সমস্যার, বিশেষ করে যাদের ঠান্ডার ধাত বা অ্যাজমা ইত‍্যাদি...