বুধবার, ১ মে, ২০১৯

সিলেবাসকে হতে হবে সামগ্রিক বিকাশের মূল চাবিকাঠি

Syllabus should be the key of overall development

সিলেবাস কেমন হওয়া উচিৎ ?

আমরা কেমন হয়ে উঠতে চাই, বা কেমন থাকতে চাই,বা কি চাই ?
এ প্রশ্নের উত্তর যা হবে সিলেবাসও সেরকম হওয়া উচিৎ।
প্রত‍্যেক মানুষই ভাল থাকতে চায়, ভালোভাবে জীবন নির্বাহ করতে চায়, চায় সুখ ও শান্তি, চায় সমৃদ্ধি ও উন্নতি।
Syllabus should be the master key to overall development
Students need Computer knowledge


ভালো থাকার মূল চাবিকাঠি সমূহ:-

১. আর্থিক স্বচ্ছলতা: 

আর্থিক স্বচ্ছলতা ছাড়া ভালো থাকা কঠিন।তাই শিক্ষাকে এমনভাবে মেলে ধরতে হবে যাতে সেই শিক্ষা শিক্ষার্থীকে খুব সহজে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে উঠতে সাহায্য করে,এবং স্কুল জীবন থেকেই শিক্ষার্থীকে যাতে সে সম্পর্কে সজাগ ও উদ‍্যোগী হয়ে উঠতে সাহায্য করে।যার যেদিকে ঝোঁক তাকে সেদিক দিয়ে যেন প্রস্তুত করে তুলতে পারে এরকম শিক্ষাই দরকার।এটা খুব প্রয়োজন।স্বনির্ভর ও স্বাবলম্বী মানবকুলই সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে পারে।দিশাহীন,কর্মহীন দিশেহারা হতাশাগ্রস্ত মানুষ সমাজের সকল সমস্যার আধার।বিপথগামী বেকার বা কর্মহীন মানুষ সমাজের বোঝা শুধু নয়,তারা নিজেরা যেমন ভালো থাকতে পারে না,তেমনি অন‍্যের ভালো থাকার পথও রুদ্ধ করে তুলতে পারে।
তাই শিক্ষাকে হতে হবে কর্মমুখী,যা শিক্ষার্থীকে আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার পথ বাতলে দেবে।

২. সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতা: 

সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর শরীর ও মন ব‍্যক্তিমানুষের ভালো থাকার জন‍্য অপরিহার্য।তাই শিক্ষা হতে হবে এমন যা শিক্ষার্থীকে সুস্থ থাকতে ও সুস্বাস্থ্য গড়ে তুলতে শেখাবে এবং তার অবকাশণ দেবে।এটা সম্ভব রোগ ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে জ্ঞানলাভ ও খেলাধুলা ও শরীরচর্চার মাধ‍্যমে। তাই সিলেবাসে এসব বিষয়কে বেশ ভালো মতোই অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। "জীবনবিজ্ঞান" বিষয়ের মধ্যে কিন্তু এ বিষয়টাকে অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া যায়।আর শরীরচর্চার জন‍্য স্কুলে শেষ পিরিয়ডটাকে নির্ধারিত করে দেওয়া যায়,এবং সুপরিকল্পিত সুশৃঙ্খলভাবে শরীরচর্চার অনুশীলন করানো যেতে পারে।

৩. হাসি ও আনন্দ: 

সিলেবাসে নাচ,গান,আবৃত্তি, নাটক ইত্যাদি সাংস্কৃতিক চর্চার সংস্থান রাখতে হবে।শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশের জন‍্য এটা আবশ‍্যক।

৪. সামাজিক সম্পর্ক ও সমাজ সম্পৃক্ততা: 

শিক্ষার্থীদের সামাজিক জীবনে সঠিক ও সুস্থভাবে চলার শিক্ষা দিতে হবে।তারা যাতে সমাজে সবার সঙ্গে সঠিক সম্পর্ক রেখে সঠিক ভাবে চলতে পারে, তাদের দ্বারা যাতে সমাজে উৎকর্ষতা আসে,তাদের দ্বারা কোনরকমভাবেই যাতে সমাজের কোন অনিষ্ট না হয় সে শিক্ষা তাদের দিতে হবে।
শুধু তাই নয়,তারা যাতে সামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির কান্ডারী হয়ে উঠতে পারে তার জন‍্য তাদেরকে সমাজসেবা(Social Work) এর শিক্ষা দিতে হবে।এর জন‍্য সোস‍্যাল ওয়ার্ককে পূর্ণাঙ্গ বিষয় হিসাবে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।তবে কেবলমাত্র নবম শ্রেণিতে একটি বিষয় হিসেবে একে রাখা যায়।

৫. আদর্শ ও নৈতিক মূল‍্যবোধের বিকাশ: 

শিক্ষার্থীর মধ‍্যে সঠিক আদর্শ ও নৈতিক মূল‍্যবোধের বিকাশ না ঘটলে তার অন‍্য সব শিক্ষা ব‍্যর্থতায় পর্যবসিত হবে, বৃহত্তর সমাজের উন্নতি ও অগ্রগতিতে তা কোন কাজেই আসবে না।বরং,একজন নীতিহীন মানুষ সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষে বড়রকমের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।তাই সিলেবাসে আদর্শ ও নীতিশিক্ষা ও সঠিক আচরণ শিক্ষার সংস্থান রাখতে হবে।এর জন‍্য মাঝে মাঝে কর্মশালারও আয়োজন করতে হবে।

৬.যুক্তিবাদী,বিজ্ঞান চেতনাসম্পন্ন ধর্মান্ধতামুক্ত মানুষ তৈরি: 

যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক ও সংস্কারমুক্ত মুক্তচিন্তার মানুষই কেবল একটি শক্তিশালী ও উন্নত জাতি গড়ে তুলতে পারে,জাতিকে সঠিক দিশা দেখাতে পারে, এবং উটকো ঝঞ্ঝাটমুক্ত একটা পরিচ্ছন্ন রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারে।তাই শিক্ষা ব‍্যবস্থার অভিমুখকে সেদিকে চালিত করতে হবে।

৭. দেশপ্রেম ও আদর্শ দেশ গঠনে অংশগ্রহণ: 

শিক্ষার মধ্যে এমন উপাদান থাকতে হবে যাতে শিক্ষার্থীদের মনে দেশের প্রতি,দেশের মানুষের প্রতি মমত্ববোধ তৈরি হয়,এবং দেশের মহান ও কৃতী সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে ওঠে।এবং দেশের উন্নতি, অগ্রগতি ও দেশগঠনের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন‍্য অনুপ্রাণিত হয়।

৮. শনিবারের অর্ধদিবস: 

শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন‍্য চাই সর্বাঙ্গীন শিক্ষা।সেই শিক্ষাকে কেবল পুঁথিগত শিক্ষার মধ্যে আবদ্ধ হলে চলবে না,পুঁথির বাইরেও যে অনন্ত অসীম আকাশ রয়েছে তার সঙ্গে শিক্ষার্থীর পরিচয় বা সংযোগ ঘটাতে হবে।আর সেই কাজের জন‍্য শনিবারের অর্ধদিবসকে কাজে লাগানো যেতে পারে।বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্যময় কর্মপরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে ঐ দিন।
ঐ দিন করা যেতে পারে কনফারেন্স, সেখানে বাইরের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ বা বিশিষ্ট ব‍্যক্তিদের আহ্বান করে আনা যেতে পারে বক্তব্য রাখার জন‍্য।এর মাধ্যমে বিচিত্র বিষয়ে বিচিত্র জ্ঞান লাভের সুযোগ ঘটতে পারে শিক্ষার্থীদের, সেইসঙ্গে নিত‍্যদিনকার গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে একটু অন‍্যরকম স্বাদও পেতে পারে তারা।
হতে পারে বিতর্ক, বিভিন্ন বিষয়ের উপর সচেতনতা মূলক ক‍্যুইজ, হতে পারে নাচ,গান,অভিনয় ইত্যাদি সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ।হতে পারে বিভিন্ন কর্মশালা, হাতেকলমে পরীক্ষা নিরীক্ষা, বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ, বা বিভিন্ন বিষয়কেন্দ্রিক আলোচনা।

কোন মন্তব্য নেই:

Featured post

শীতের স্বাস্থ্য-সমস্যা ও তার প্রতিকার How to heal the health problems of Winter season

শীতে পরুন গরম পোশাক শীত একটি সুন্দর মনোরম ঋতু।কিন্তু শীতকাল অনেকের কাছেই খুব সমস্যার, বিশেষ করে যাদের ঠান্ডার ধাত বা অ্যাজমা ইত‍্যাদি...